1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

গোলপোস্ট থেকে রাজপথের সৈনিক, এখন ক্রীড়াঙ্গণের শীর্ষে: আমিনুলের অনন্য যাত্রা

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সুখবরটি ছিল সোমবারই। বিএনপির নবগঠিত সরকারের মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট ক্যাটাগরিতে শপথ নেওয়ার জন্য ডাক পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। এই খবরের পর থেকে দেশে মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে আমিনুলের সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন अनुभवी ফুটবলার, বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক, এবং ২০০৩ সালে দেশের প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। মঙ্গলবার তিনি সেই প্রাপ্তির খেতাবের সঙ্গে আরও এক নতুন পরিচয় যোগ করলেন—যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে। এখন তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গণের একনায়ক, গোলপোস্টের মাঠে ছিলেন অতন্দ্র প্রহরী, আর এখন তিনি রাজপথের লড়াকু সৈনিক। তিনি দেশের ক্রীড়াবিদ ও খেলোয়াড়দের উন্নয়নে এক স্পষ্ট দিশারী।

২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়লাভ করতে পারেননি। কিন্তু এর মাঝেও তার প্রতি দেশের মানুষের আস্থা কমেনি। নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে তার প্রতি আস্থা ও সম্মান অব্যাহত ছিল, যা তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ।

ফুটবলই আমিনুলের জীবনের মূল পরিচয়। ১৯৯৮ সালে কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে তিনি জাতীয় দলে অভিষেক করেন। এরপর এক দশকের বেশি সময় ধরে নিয়মিত দলে থেকেছেন, চোট ছাড়া খুব বেশি সময় একাদশের বাইরে যেতে হয়নি তাকে। ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জয়ে দলের নেতৃত্বদান করেছেন, এবং ২০১০ সালে এসএ গেমসে বাংলাদেশের স্বর্ণ জয়িতার সম্মান অর্জন করেছেন। সেই টুর্নামেন্টে তার জালে বল জড়ায়নি একবারও।

২০১১ সালে ফুটবল থেকে অবসরে গিয়ে তিনি রাজনীতিতে মন দেন। প্রথমে সীমিত পরিচিত হলেও ধীরে ধীরে তিনি সক্রিয় ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। রাজপথে নানা আন্দোলন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার মধ্য দিয়ে তার নতুন পরিচয় গড়ে ওঠে। এই পথচলায় তাকে কারাবরণও করতে হয়েছে, পুলিশি নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে তার জীবনে।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই তিনি ক্রীড়াঙ্গনে বেশি সময় কাটাচ্ছেন। দেশের নানা প্রান্তে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ানো, পিছিয়ে পড়া ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তার এই অবদান স্বীকৃতি পেয়েছে সম্প্রতি। দীর্ঘ পথচলা, ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে এখন তার কাঁধে দায়িত্ব, যা দেশের ক্রীড়াঙ্গণের সংস্কারের বড় হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

আগামী দিনে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে, যেখানে তার সক্ষমতা প্রমাণের প্রয়োজন। দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি বড় স্বপ্ন দেখালেন—দেশের ২৯৫টি উপজেলায় প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া অফিসার নিয়োগের পরিকল্পনা; সেখানে পাঁচটি ইভেন্ট বাধ্যতামূলক করে প্রতিটির জন্য তিনজন করে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত। এর ফলে, প্রতিটি উপজেলায় একজন ক্রীড়া অফিসার ও ১৫ জন ক্রীড়া শিক্ষক থাকবেন। পাশাপাশি, তিনি দেশের স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রিকে জোরদার করার পরিকল্পনাও রেখেছেন। তিনি চান, দেশের প্রয়োজনীয় স্পোর্টস ইকুইপমেন্ট দেশেই তৈরি ও রপ্তানি হোক, যাতে ক্রীড়াঙ্গনে স্বনির্ভরতা আসে। গ্রামীণ পর্যায়ে ক্রীড়া প্রসারে এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রধানমন্ত্রী থেকে দেশের তরুণ ক্রীড়াবিদদের জন্য এক নতুন দিশারী হতে চলেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, ক্রীড়াঙ্গণ হবে তার গুণগত পরিবর্তনের অন্যতম মাধ্যম।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo