1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
আসুন সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি: বিএনপি চেয়ারম্যান প্রত্যাশিত দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী আসুন সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি — বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীসহ মুসলমানদের ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান দেশের মানুষ ও বিশ্ব মুসলিমদের পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা ঈদুল ফিতরে পদ্মা-যমুনা সেতুতে রেকর্ড যানবাহন পারাপার ও টোল আদায় ঈদযাত্রায় ৩ দিনে পদ্মা সেতুতে ১৩ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ টাকার টোল আদায় নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়বেন প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা: জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে নামাজ পড়বেন

চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত: আশীর্বাদ না অভিশাপ?

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬

২০২৬ সালের মাত্র দুই সপ্তাহ পেরুতেই চীনের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিশ্বকে驚িত করে দিয়েছে। ২০২৫ সালজুড়ে চলা আন্তর্জাতিক শুল্ক যুদ্ধের চাপ সত্ত্বেও, দেশের রপ্তানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরে চীনের বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে—যা এখনো পর্যন্ত বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি।

এই তথ্য প্রকাশের একদিনের মধ্যেই নিউ ইয়র্ক টাইমসে এক বিশ্লেষণে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ও ইউনিভার্সিটি অফ কর্নেলের অধ্যাপক ঈশ্বর প্রসাদ খোলাসা করেছেন, এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের চেয়েও বড় বিপদের সংকেত। তাঁর ভাষায়, এই অত্যধিক উদ্বৃত্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অধ্যাপক প্রসাদ যুক্তি দিয়েছেন যে, চীনের সস্তা পণ্য শুধুমাত্র উন্নত দেশগুলোর উৎপাদন শিল্পের জন্য নয়, বরং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতেও প্রতিযোগিতাকে কঠিন করে তুলছে। তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে নিজেকে এমনভাবে নির্ভরশীল করা, এটি আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও সুবিধাজনক বাণিজ্য পরিস্থিতি ভেঙে ফেলতে পারে।’’

অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের سابق প্রধান সম্পাদক হু সিজিন এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৬ জানুয়ারি এক পোস্টে বলেছেন, চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ওয়াশিংটনের উচ্চবর্ণের লোকজনকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। কারণ তারা বুঝতে পারছেন যে, চীনের অর্থনীতি অত্যন্ত স্থিতিশীল ও টেকসই—কোনো বাণিজ্য যুদ্ধের মাধ্যমে এই অর্থনীতিকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, চীন একান্তই সততা, পরিশ্রম ও বিশ্বস্ততার ভিত্তিতে ব্যবসা করে যাচ্ছে, কোনও শক্তির জোর বা অন্যায় চাপের মাধ্যমে নয়।

চীনের এই রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্তের মূল কারণগুলো জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর পেছনের মূল কারণ হলো শক্তিশালী রপ্তানি এবং নিম্ন গতি সম্পন্ন আমদানির বিপরীতে। গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শুল্ক যুদ্ধের কারণে চীনের রপ্তানি ২০ শতাংশ কমলেও, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, আসিয়ান অঞ্চল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশেষ করে আফ্রিকায় রপ্তানি দৈনিক ২৫.৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, ঐতিহ্যবাহী চাহিদা ও ইউয়ানের দাম কমে যাওয়া এর পেছনের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা চীনা পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে আকর্ষণীয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাণিজ্য অংশীদারদের জন্য ঝুঁকি সংকেত
তুলনামূলকভাবে দেখা গেছে, ২০২৫ সালজুড়ে চীনের মোট আমদানির পরিমাণ মাত্র ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধির মধ্যে ছিল, যা রপ্তানি বৃদ্ধির ৬.১ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। ফলে, বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার অভাব। ভোক্তা পণ্যের খুচরা বিক্রয়ে ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ধারাবাহিকভাবে কম প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে; নভেম্বর মাসে এই হার সবচেয়ে কম হয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পাশাপাশি, স্থিতিশীল সংকটের কারণে এখনো উপযুক্ত বিনিয়োগের অভাব দেখা দিয়েছে। এক কথায়, অভ্যন্তরীন অর্থনীতির এই দুর্বলতা দৃষ্টিগোচর হয়ে উঠেছে, যার ফলে আমদানি বাড়ানো কষ্টকর হয়ে পড়ছে।

চীনের মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত গত বছর সাত মাসেই ১০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, যদিও ২০২৪ সালে মাত্র একবারই এরকম ঘটনা ঘটেছিল। এই পরিস্থিতি বুঝতে আমাদের জানায় যে, শক্তিশালী রপ্তানি ও দুর্বল আমদানির এই ভারসাম্যহীনতা কোনও অপ্রত্যাশিত বা এককালীন ধারা নয়। এটি চীন ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য দুটিই গুরুত্বপূর্ণ সংকেত এবং সম্ভাব্য সুফল ও পাশাপাশি ঝুঁকি বহন করে।

বিশাল এই উদ্বৃত্তের কারণে বোঝা যায়, চীনের উৎপাদন অবস্থা কতটা শক্তিশালী। এর ফলে চীনের অর্থনীতি সচল থাকছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক। এ ছাড়া, বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায়, চীন অন্য দেশগুলোকে সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত মানের পণ্য সরবরাহ করে চলেছে, যা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির উপর নিয়ন্ত্রক ভূমিকা রাখছে।

তবে, এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পেছনে কিছু সমস্যা ও ঝুঁকিও লুকানো রয়েছে। অত্যধিক রপ্তানি নির্ভরশীলতা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে, চীন এক অর্দ্ধ-বন্ধন চক্রে আটকে যেতে পারে, যেখানে বৈশ্বিক চাহিদা শক্তিশালী থাকলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল থাকবে। এতে করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও চাপ বাড়বে এবং চীনা পণ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

অর্থনৈতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য জরুরি
বর্তমানে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্ক যুদ্ধ কিছুটা শীতল হলেও, এই অপ্রয়োজনীয় বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পটভূমি আবারও ট্রাম্পকে সুযোগ দিতে পারে, ক্ষতিকর ‘শুল্ক আর্টিলারি’ ব্যবহারের। অন্যদিকে, অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদাররাও সতর্ক হয়ে উঠেছে। গত বছরের প্রথম ১১ মাসে, চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি উদ্বেগজনক হুঁশিয়ারি উত্থাপন করে। আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি চীন রপ্তানি নির্ভরশীল প্রবৃদ্ধিতে এখনও অবিচল থাকে, তবে তা বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতিকে উত্তেজিত করে তুলবে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও একই মঞ্চে বলেছেন যে, চীনা বাণিজ্য ভারসাম্য না ঠিক হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

অন্টার্ভু পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে, চীনের সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা এসেছে যে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে তারা সৌরবিদ্যুৎ পণ্য রপ্তানির ভ্যাট ফেরত বা কর ফেরত ব্যবস্থা বাতিল করবে। ব্যাটারি ও অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে এই সুবিধাগুলো ধীরে ধীরে কমিয়ে আনবে এবং আগামী বছর থেকে পুরোপুরি বন্ধের পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাঝে বৈদ্যুতিক গাড়ির শুল্কের ব্যাপারে একটি সমঝোতা হয়েছে, যা চীনা গাড়ি নির্মাতাদের জন্য একটা নতুন পথ খুলে দিয়েছে।

সবশেষে, প্রশ্ন হলো—এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? সব কিছু নির্ভর করছে, এই অর্থনীতির আয় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ফিরে আসে কি না, রপ্তানির রূপান্তর ও আমদানির মধ্যে সুষম ভারসাম্য নিশ্চিত হয় কি না, এবং বাজারগুলো আরও উন্মুক্ত হয় কি না—তার উপর। তবে, বাস্তবতা দেখাচ্ছে যে, এই পরিস্থিতি এমন কিছু নয় যা খুবই আশাব্যঞ্জক বা খুবই উদ্বেগজনক—মাঝপথে রয়েছে নানা দিক।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo