1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

বিপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী, চট্টগ্রামকে হারালো

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬

বিপিএল ফাইনালের শুরু থেকে ঘণ্টা দেড়েক আগে হাসির রঙ ছিল মাঠেক। তখনই হেলিকপ্টার থেকে ট্রফি নিয়ে মাঠে এলেন রাজশাহীর জনপ্রিয় ক্রিকেটার এবং অধিনায়ক আকবর আলী, সঙ্গে ছিলেন সালমা খাতুন। আকবর, যিনি বাংলাদেশকে যুব বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার পরিচিতি তৈরি করেছেন, তিনি সেই ট্রফি হাতে মিরপুরের দর্শকদের দেখায় উচ্ছ্বাসে মূর্চ্ছিত করলেন। এই বিপিএলে তিনি ডানহাতি উইকেটকিপার ও ব্যাটার হিসেবে রাজশাহীর জন্য খেলেছেন। অন্যদিকে, শেখ মেহেদী ব্যতিক্রমী ফটোসেশন করলেও পুরো দলের অন্য সদস্যরা ট্রফির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পাননি। তবে নাইম শেখের জন্য সেই সুযোগটি কেড়ে নিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম, যিনি দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বিপিএলের ফাইনালে সেঞ্চুরি করে সবাইকে অভিভূত করেছেন। তার এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে রাজশাহী দলের সংগ্রহ হয় ১৭৪ রানের বিশাল পুঁজি। লক্ষ্য তাড়ায় চট্টগ্রাম দল নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে। দ্রুতই চট্টগ্রামকে চেপে ধরেন রাজশাহীর স্পিনার বিনুরা ফার্নান্দো, এরপর উইকেটের পর উইকেট লাভ করেন হাসান মুরাদ। শেষ দিকে অসাধারণ বোলিং করে বিনুরা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে তোলেন। ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতার কারণেআরটু বেশি রান তোলা সম্ভব হয়নি চট্টগ্রামের। তারা শেষ করে ৬৩ রানে অল আউট, আর এই জয়ে বিপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী, যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শন্ত ও মুশফিকুর রহিম। মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই দুষ্টু দিক দেখিয়েছে চট্টগ্রাম। তারা শুরু থেকেই ধীরেসুদে খেলেছে, তবে পাওয়ার প্লে শেষে হাত খুলে খেলতে থাকেন ওপেনার তানজিদ। সাতের ওভারে তিনি দু’টি ছক্কা হাঁকিয়ে আক্রমণাত্মক ভাব প্রকাশ করেন। ৯ম ওভারে তিনি আবার দুই ছক্কা মারেন, আর প্রথমে নিজের পারফরমেন্সে আস্থা বাড়ান। তবে সাহসের ঝলক দেখিয়ে ইনিংসের ১৬তম ওভারে উইলিয়ামসনকে দূরে সরিয়ে বড় শট খেলতে গেলে ব্যর্থ হন। এরপর অধিনায়ক জাহিদুজ্জামান সাগর এবং অন্য ব্যাটাররা দ্রুত ফিরে যান। শেষ দিকে, দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তানজিদ ৬১ বলের ম্যাচে সেঞ্চুরি করে ইতিহাস রচনা করেন। বিপিএলের ইতিহাসে ত্রাণ্য বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসেবে দ্বিতীয়বার ফাইনালে সেঞ্চুরি করেন তিনি, এর আগে ২০১৭ সালে ক্রিস গেইল এবং ২০১৯ সালে তামিম ইকবাল করেছিলেন। তার এই রেকর্ডি পারফরমেন্সের কারণে তিনি এখন বিপিএলে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক। শেষ পর্যন্ত, রাজশাহীর হয়ে শান্ত ৭ বলে ১১ এবং নিশাম ৬ বলে ৭ রান করেন। এই সেঞ্চুরির যুগে রাজশাহী করে ১৭৪ রানের সংগ্রহ। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানরা শেষ কিছু ওভারে দ্রুত রান করলেও শেষ অবধি তারা ১১১ রানে সব উইকেট হারিয়ে যায়। আবহমের রাজশাহী দলের পুরো পারফরম্যান্সে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন বিনুরা চারটি, এবং মুরাদ নিয়েছেন তিনটি। এই জয়ে রাজশাহীর ট্রফি ঘরে ফেরে। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা চট্টগ্রাম দলের শুরুটা ছিল ধীর, তবে উইকেট হারানোর পরে তারা ধীরে ধীরে খেলতে থাকেন। ওপেনার সাহিবজাদা শুরুতেই ৩০ বলে ৩০ রান করে উইকেট হারান। এরপর দ্রুতই ফিরে যান তিনে নামা মাহমুদুল হাসান জয়, যিনি ১০ বলে ৯ রান করে সাজঘরে। পরে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন মির্জা এবং হাসান নাওয়াজ, কিন্তু নাওয়াজ যতটুকু সম্ভাবনাময় ছিল, তা পূরণ হয়নি। মুরাদের বল থেকে আউট হন নাওয়াজ। এরপর, তাহির ও আসিফ আলীর ব্যর্থতা দলের মানসিকতাকে দুর্বল করে দেয়। তাহির ৩৬ বলে ৩৯ রান করে স্টাম্পিং হন, আর আসিফ দ্রুত ফিরে যান। শেষের দিকে, ব্যাটসম্যানরা রানের গড় চালিয়ে যান এবং তানজিদ নিজেকে বিপিএলের ফাইনালে সেঞ্চুরির স্বীকৃতি দেন। তিনিই ফাইনালসেরা নিজ দেশের ব্যাটার হিসেবে তৃতীয় বার সেঞ্চুরি করেন রিপোর্ট অনুযায়ী। এই দুর্দান্ত পারফরমেন্সের জন্য তিনি এখন বিপিএলে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক। দলের অন্যান্য সদস্যরা সম্মিলিতভাবে অবদানের মাধ্যমে রাজশাহীর শিরোপা নিশ্চিত করেন। এই ফাইনালে রাজশাহীর হয়ে শেষ দিকে অধিনায়ক শান্ত ৭ বলে ১১ এবং নিশাম ৬ বলে ৭ রান করেন। তানজিদের অসাধারণ শত্যাক্রান্তি আর দলের একজোট প্রচেষ্টা শেষে রাজশাহী জেতার সেই স্বপ্ন সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হয়। এই জয়ে, শরিফুল ব্যাপক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেনও, সেক্ষেত্রে তিনি বিপিএলে এক আলাদা রেকর্ড গড়েছেন। তিনি এখন এক আসরে সর্বোচ্চ ২৬ উইকেট সংগ্রহকারী একজন ক্রিকেটার। তার এই পারফরম্যান্স প্রশংসার দাবিদার, আর রাজশাহীর ট্রফি জয় শুধু দলের জন্যই নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও অত্যন্ত গৌরবের ব্যাপার।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo