1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
আসুন সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি: বিএনপি চেয়ারম্যান জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ড্রাম ব্রিজ ভেঙে নদীতে পড়ে শতাধিক, ৩ শিশু নিহত, ২ নিখোঁজ আসুন সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামালপুরে ভাঙা ড্রাম ব্রিজে পড়ে শতাধিক মানুষ, ৩ শিশু নিহত আসুন সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি: বিএনপি চেয়ারম্যান প্রত্যাশিত দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী আসুন সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি — বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীসহ মুসলমানদের ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান দেশের মানুষ ও বিশ্ব মুসলিমদের পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা ঈদুল ফিতরে পদ্মা-যমুনা সেতুতে রেকর্ড যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়

শাওনের ফেসবুক পোস্টে হুমায়ূনের জীবনের নানা স্মৃতি এবং মনোভাব প্রকাশ

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫

প্রয়াত জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের আত্মজীবনীমূলক বই ‘নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ’ থেকে এক হৃদয়স্পর্শী অংশ নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশ করেছেন তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। নিউইয়র্কে ক্যানসারের চিকিৎসার সময়ে লেখক এই বইটি লিখেছিলেন, যেখানে তিনি তার মানসিক দুর্বলতা এবং বিকৃত মানসিকতার মানুষের নির্মমতা তুলে ধরেছেন।

রোববার, ৫ অক্টোবর, নিজের ফেসবুক পেজে শাওন প্রকাশ করেছেন কিভাবে তার স্বামী হুমায়ূন আহমেদ অসুস্থতার সময় কিছু বিদ্রুপ মন্তব্যের শিকার হয়েছিলেন। একজন ব্যক্তি লিখেছিল, ‘তোমার উচিত শিক্ষা হয়েছে। আমি খুশি যে আল্লাহ তোমার স্বামীকে ক্যানসার দিয়ে শিক্ষা দিলেন।’

একদিন শাওন লক্ষ্য করেন, তার স্বামী কম্পিউটারে বসে ফেসবুকে দেখছিলেন, চোখে অশ্রু জমে রয়েছে। তিনি জানতে চান সমস্যা কী। স্বামী বলেন, মন খারাপ, কিছু বলতে চান না। পরে শাওন জানতে পারেন, ফেসবুকে একজন ব্যক্তির দেওয়া মন্তব্যে তার মন আঘাতপ্রাপ্ত। সেখানে লেখা ছিল, ‘তোমার উচিত শিক্ষা হয়েছে। আমি খুশি যে আল্লাহ তোমার স্বামীকে ক্যানসার দিয়ে শিক্ষা দিলেন।’ এমন মন্তব্য শাওনের মেয়ের মৃত্যুর সময়ও বহু মানুষের কাছ থেকে এসেছিল। তাদের একটিতে লেখা ছিল, ‘তোমার কঠিন শাস্তি হওয়ায় আমরা খুশি। আরও শাস্তি হবে।’ এই ধরণের কথা শুনে শাওন ভেঙে পড়লেও, তার স্ত্রী তাকে সাহস দেন এবং বলেন, ‘আমরা মানসিক অসুস্থ অনেক মানুষকে বুঝতে পারি। তাদের নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। তোমার জন্য বিশ্বাস রাখো, অসংখ্য মানুষ তোমাকে ভালোবাসে ও শুভকামনা করে।’

শাওনের লেখা অনুযায়ী, এক পর্যায়ে তিনি এই বোধের উন্নতি করেন যে, এই ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য সাধারণ মানুষের হয়তো অপ্রাপ্তি বা মানসিক অস্থিরতার ফল। তিনি বলেন, কেবল ইতিবাচক মানুষকেই গুরুত্ব দিতে হবে। একবার তিনি দেখলেন একজন ব্যক্তি কাবা শরিফ থেকে এসেছেন এবং বললেন, ‘আমি স্যারের জন্য দোয়া করতে এসেছি।’ এরপরই তিনি জানতে পারলেন, এই ব্যক্তি তার জন্য শুভকামনা জানিয়ে যাচ্ছেন। এভাবেই তিনি হাসি হাসতে শিক্ষিত হন।

অতসার জীবনে হুমায়ূন আহমেদ বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষকে দেখেছেন, যারা বিকৃত মানসিকতার শিকার। তার একটি অভিজ্ঞতাও তিনি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, তখন গেটের সামনে এক যুবক হঠাৎ হঠাৎ বলে উঠল, ‘তোমার লেখা আমার জঘন্য লাগে’। এই কথা শুনে তিনি বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘এই কথাটা বলার জন্য এত ঝামেলা কেন?’ ওই যুবক জবাবে বলল, ‘কারণ কারোর সাহস নেই আপনাকে সরাসরি এসব বলতে। সবাই আপনার পিছনে চামচা’। সেই সময় একটি ইংরেজি কথাও বললেন যুবক, ‘আই ওয়ান্ট ইউ টু ডাই সুন’ (আমি চাই আপনি শিগগির মারা যান)। এর উত্তরে হুমায়ূন বলেন, ‘আমি আশা করি, তোমার জীবন দীর্ঘ ও meaning-full হবে।’ এই ঘটনা বর্তমান সমাজে বিকৃত মানসিকতার মানুষের বেড়ে ওঠার দিকটি ফুটিয়ে তোলে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo