বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, এমনটি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য পোস্ট’।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনফান্তিনো এই বছর বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট রাখতে তিনি বিভিন্নভাবে উদ্যোগ নিয়েছেন। গত ডিসেম্বরে ইনফান্তিনো ট্রাম্পের কাছে ফিফার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘শান্তি পুরস্কার’ তুলে দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র বলেছে, প্রেসিডেন্ট মনে করেন ইনফান্তিনোকে বিশ্বজুড়ে সম্মান করা হয় এবং মানুষকে একত্রে করতে তিনি বিশেষ দক্ষতা রাখেন।
বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই বছরের ডিসেম্বরের শেষে পদত্যাগ করলেও থাকতে পারেন বা মেয়াদ শেষও হতে পারে; তার পরেই নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হবেন। একটি প্রার্থীকে পদটি নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের সমর্থন (যেখানে স্থায়ী পাঁচ দেশের ভিটো ক্ষমতা আছে) এবং পরে সাধারণ পরিষদের অনুমোদন পেতে হয়।
এখনো স্পষ্ট নয় ইনফান্তিনো নিজে এই পদ চায় কি না এবং ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর কতটা আলোচনা হয়েছে। তবে ট্রাম্পের মনে হওয়ার কথা হলে তা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিয়মকানুনকে চ্যালেঞ্জ করার মতো বলেও অনেকে মনে করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখনকার প্রার্থী তালিকায় কিছু দুর্বল প্রার্থীও রয়েছেন বলে ট্রাম্পের দৃষ্টিতে বড় সুযোগ আটকে থাকতে পারে। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচেলেত—যিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাধার মুখে পড়তে পারেন—এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি—যাকে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ সংক্রান্ত বিতর্কের কারণে যুক্তরাজ্যের আপত্তি হতে পারে।
ঐতিহ্যগতভাবে অঞ্চলভিত্তিক আবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী এবার লাতিন আমেরিকা বা ক্যারিবীয় অঞ্চলের কোনো প্রার্থীকে মহাসচিব হওয়ার তাগিদ ছিল। ট্রাম্পের মনোবল হলে এই ভৌগোলিক প্রথা ভাঙা হতে পারে। তবুও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শুধুমাত্র ভৌগোলিক নিয়মই ইনফান্তিনোর পথ বাধা দিতে পারবে না; তিনি যদি চান, তাহলে আরেকটু বেশি দেশের সমর্থনও জোটাতে পারেন।
সূত্রগুলোর প্রকাশিত তথ্য অনুসারে বিষয়টি এখন কূটনৈতিক দরকষাকষি ও পরবর্তীকালের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া ক্রমে বাড়তে পারে।