ইরানের বিপ্লবী গার্ড বা আইআরজিসি নৌবাহিনী শনিবার বিকেলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জবাবে তারা ‘অপারেশন নাসর-২’ নামে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, এই হামলা গত রাত থেকে শুরু হওয়া মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি নেভি নির্দিষ্ট কয়েকটি লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছে: কুয়েতের আল-আহমাদি বন্দরের জ্বালানি সরবরাহ ডক, শেখ ঈসা বিমানঘাঁটির যুদ্ধবিমান অ্যাসেম্বলি এলাকা, বাহরাইনের বাতেলকো গোয়েন্দা ডেটা সেন্টার এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সিগন্যাল ও যোগাযোগ কেন্দ্র। আইআরজিসি দাবি করেছে এসব স্থানে সুনির্দিষ্ট আঘাত করা হয়েছে।
আইআরজিসি আরো জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা মার্কিন বাহিনীকে প্রতিবারই পিছু হটতে বাধ্য করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে বিবৃতিতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও করা হয়েছে — আইআরজিসি অভিযোগ করেছে যে মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের হাসপাতাল, সেতু, রেলপথ, বিমানবন্দর ও বন্দরসহ বেসামরিক অবকাঠামোকে নষ্ট করছে এবং সাধারণ মানুষকে নির্লজ্জভাবে লক্ষ্য করে হত্যা করছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থা এসব কার্যক্রম বন্ধ করায় ব্যর্থ হওয়ায় তারা পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে।
তবে আইআরজিসি বলেছে যে তারা হামলা সীমিত রেখেছে এবং মূলত সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে টার্গেট করেছে যাতে ওয়াশিংটনকে ‘‘অবমাননাকর নীতি’’ থেকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ দেওয়া যায়। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কুয়েতের আরিফজান গ্রাউন্ড ফোর্সেস লজিস্টিক সেন্টার (যেখানে মার্কিন সেনার সমাবেশ ছিল), আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির রাডার সিস্টেম এবং একটি অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার ও ড্রোন শেল্টার সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
আইআরজিসি প্রতিবেশী দেশগুলোকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যারা মার্কিন বাহিনীকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানোর সুযোগ দিচ্ছে, তাদেরকে এখনই প্রস্তুত থাকতে হবে। তারা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য সিভিল ডিফেন্স ইউনিট সক্রিয় করতে এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর কাছ থেকে বেসামরিক মানুষদের সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যে কোনো উসকানির জবাবে তারা মিত্র দেশগুলোর মাঠে থাকা মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে ধূলিসাৎ করতে দ্বিধা করবে না।
এই হামলার পরে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) বা কুয়েত ও বাহরাইনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে ঘটনার প্রভাব ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।
আইআরজিসির নৌ-যোদ্ধারা একই সময় হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরে তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে তোলার দাবি তুলেছে এবং বলেছে, তারা উপসাগরের প্রতিটি ইঞ্চি নজরদারিতে রেখেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো নতুন হামলা হলে কঠোর ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।