বহু বছর ধরে ছড়ানো ধারণা যে বাংলাদেশি নয়—ভারতীয় সিনেমা থ্রি ইডিয়টসের র্যাঞ্চো চরিত্রটি প্রকৌশলী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুকের জীবনী থেকে অনুপ্রাণিত, সেই দাবি নাকচ করেছেন নায়ক ও নির্মাতা আমির খান।
লন্ডনে এক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বক্তব্য দেওয়ার সময় আমির বলেন, সিনেমাটি তৈরির সময় তিনি কিংবা চিত্রনাট্যকারেরা কেউই সোনম ওয়াংচুক সম্পর্কে জানত না। তিনি বলেন, ‘‘এটি একটি ভুল ধারণা। আমরা যখন থ্রি ইডিয়টস করছিলাম, তখন সোনম সম্পর্কে জানতাম না।’’
মামলাটি আবার আলোচনায় আসে কারণ সম্প্রতি সিনেমাটির অভিনেতা ওমি বৈদ্য (চতুর চরিত্রে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে জানান, তাঁর ধারণা র্যাঞ্চোর চরিত্রটি ওয়াংচুকের জীবনকাহিনী থেকে অনুপ্রাণিত। ওই ভিডিওর জবাবে আমির বলেন, ‘‘চতুরের দাবি ভুল।’’
এই প্রসঙ্গে বিবৃতিতে আমির টেনশন ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে স্পষ্ট করে বলেন যে চলচ্চিত্রের ভাবনা ও রচনার সময় সোনমের কোনও তথ্য তাদের জানা ছিল না। বক্তব্যটি তিনি দেন ১৭তম লন্ডন-ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সমাপনী অনুষ্ঠানে।
এদিকে, সোনম ওয়াংচুকের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ওমি বৈদ্য যে ভিডিওটি করেছেন, তা চলমান রাজনৈতিক আন্দোলনকেও আঘাত করে না: বর্তমানে ওয়াংচুক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস তদন্ত ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশনে রয়েছেন এবং সামাজিক পরিবেশে তার এই প্রতিবাদকে সমর্থন ভাগ করতে কয়েকজন প্রকাশ্যভাবে সামনে এসেছেন।
সোনম নিজেও কিছু বছর আগে এই বিতর্কে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছিলেন, কেও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বা অনুমতি নেননি। সিনেমা মুক্তির আগে ২০০৮ সালে এক অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে আমির খানের প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ হয়েছিল — সেই বৈঠকে তিনি আমিরকে ভারতের সিয়াচেন সীমান্ত এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অনর্থক ব্যয়বহির্ভূত খরচ নিয়ে কথা বলেছিলেন এবং শিক্ষা খাতে অর্থের ব্যবহার নিয়ে তাঁর ধারণা তুলে ধরেছিলেন। আমির তখন আগ্রহ দেখিয়েছিলেন, বলে সোনমের কথায় উল্লেখ আছে।
পরবর্তীতে সোনম কয়েক বছর বিদেশে ছিলেন; থ্রি ইডিয়টস মুক্তির পর অনেকেই চরিত্র র্যাঞ্চো ও ওয়াংচুকের জীবনের মিল দেখছিলেন। তবে নিজের নাম ব্যবহার করে অর্থ দাবি করার মতো পদক্ষেপ নিতে তিনি সঙ্গে সঙ্গে এগোেননি—কারণ তা নিয়ে误 বোঝাবুঝি ও সমালোচনা হতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, কাহিনীর স্বত্ত্ব নিয়ে আইনি দাবি করার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন। এরপর তিনি নির্মাতাদের কাছে একটি চিঠি লিখে বলেছিলেন যে সিনেমা তৈরির আগে আমিরের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন চলে এসেছিল, কিন্তু নির্মাতারা সেই চিঠির উত্তর দেননি এবং সোনম নিজেও উত্তর প্রত্যাশা করছিলেন না।
এই বিতর্কে উভয়পক্ষের বক্তব্য থাকায় স্পষ্ট চিত্র গঠন করা কিছুটা জটিল। আমির পরিষ্কারভাবে বলেছেন যে র্যাঞ্চো চরিত্রটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির অনুকরণ নয়, আর অভিনেতা-নির্মাতা দলের কেউ সোনমের জীবনীভিত্তিক কোনো উপাদান ব্যবহার করেছিলেন বলে তিনি জানেন না। অন্য দিকে, সোনমের নিজস্ব ব্যাখ্যা ও ওমি বৈদ্যের মন্তব্য জনমনে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে।