1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন? শেখ হাসিনাকে এখনই দেশে ফেরার আহ্বান—আসিফ নজরুল চট্টগ্রাম অঞ্চলে ছয় দিনে বন্যা ও পাহাড়ধসে ৪৩ জন নিহত বন্যার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন — এখনই দেশে ফিরুন: অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল হাটহাজারীতে পুলিশের ‘সোর্স’ বলে জানানো দর্জিকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা চট্টগ্রামে বন্যা মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন চট্টগ্রাম ও পার্বত্য এলাকায় বন্যা মোকাবেলায় দায়িত্ব পেলেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত হাটহাজারীতে পুলিশের তথ্যদাতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা বিশ্বকাপ উন্মাদনায় দেশে ১১ মৃত্যু, হাইকোর্টে উদযাপন-শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের রিট অনুমতি ছাড়াই প্রাথমিক বৃত্তির আংশিক ফলাফল ওয়েবসাইটে আপলোড

জি-ফাইভের ভারতীয় ক্যাটালগ থেকে ‘সতলুজ’ সরানো ছেড়ে বিতর্ক তুঙ্গে

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

জি-ফাইভের ভারতীয় ক্যাটালগ থেকে সন্দেহভাজনভাবে পাঞ্জাবের ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর নির্মিত ছবি ‘সতলুজ’ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা ছড়িয়েছে। ছবিটি গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে এখনও দেখা গেলেও ভারতের দর্শকদের জন্য স্ট্রিমিং বন্ধ রাখা হয়েছে।

চলচ্চিত্রটি শিখ মানবাধিকারকর্মী জশবন্ত সিং খালরার জীবনীভিত্তিক কাহিনি; প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ। ছবি মুক্তির পরে আকস্মিকভাবে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা নিয়ে দোসাঞ্জ সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বলেন, তিনি এই ‘অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ’ করছেন এবং খালরা সাহেবের কণ্ঠস্বর দমন করা যাবে না। তাঁর ইনস্টাগ্রাম লাইভে বলার কথাও ভাইরাল—বিশ্বাস করা হচ্ছিল ছবিটি দ্রুত নামানো হতে পারে, দর্শকদের তিনি ডাউনলোড করে রাখার পরামর্শ দেন।

দোসাঞ্জ এক ভিডিও ক্লিপে (এক্সে) পাঞ্জাবিতে লিখেছেন, “হুন নি রুকনি ফিল্ম। খালরা সাব দি আওয়াজ নু কোই নি দাবা সাকদা।”—অর্থাৎ, এই চলচ্চিত্র আর থামানো যাবে না; খালরার কণ্ঠস্বর দমানো যাবে না। তিনি ভ্যারাইটি ইন্ডিয়াকে বলেছেন, ‘সতলুজ’ তার ক্যারিয়ারের অন্যতম অর্থবহ কাজ এবং তিনি চরিত্রটি সততা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন।

জি-ফাইভের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মুক্তির পর থেকে ছবিটির প্রতি দর্শকদের সাড়া চরম উৎসাহব্যঞ্জক ছিল এবং তারা সৃজনশীল স্বাধীনতার পাশে রয়েছে। তবু ‘বর্তমান পরিস্থিতি’ বিবেচনায় স্থানীয় নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতে ছবিটির স্ট্রিমিং স্থগিত থাকবে। প্ল্যাটফর্ম জানায় তারা আইনি পথে যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত ছবিটি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

ছবিটি কেন্দ্রীয়ভাবে সেন্সরের বহু জটিলতার মধ্য দিয়ে এসেছে। ছবিটি ২০২২ সালে ‘ঘাল্লুঘারা’ শিরোনামে সিবিএফসির কাছে পাঠানো হলে ১২৭টি দৃশ্য কাটা এবং নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়; প্রযোজকরা বম্বে হাইকোর্টে আপিল করলেও পরে তা প্রত্যাহার করেন। ২০২৩ সালে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রিমিয়ার থেকেও ছবিটি বিতর্কের কারণে সরানো হয়েছিল। সব বাধা–বিপত্তির পর অবশেষে ৩ জুলাই ‘সতলুজ’ নামে জি-ফাইভের মাধ্যমে মুক্তি পায়। পরিচালক হানি ত্রেহান জানিয়েছিলেন, থিয়েটার রিলিজ না হওয়ায় ওটিটিতে গোপনে মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং প্রযোজকরা দাবি করেছেন ছবিটি কোনো কাটছাঁট ছাড়াই প্ল্যাটফর্মে গেছে।

চলচ্চিত্রটি মূলত ১৯৮৪-১৯৯৪ সালের মধ্যে পাঞ্জাবে পুলিশের হাতে নিখোঁজ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ওপর গভীর অনুসন্ধান ও পরিবারগুলোকে পরিচয় শনাক্ত করে সৎকারের লড়াই তুলে ধরে। জশবন্ত সিং খালরা ১৯৯০-এর দশকে প্রায় ২৫ হাজার অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহের রহস্য উদ্‌ঘাটন করে থানার উর্ধ্বতনদের জড়িত থাকার তথ্য সামনে আনেন। ১৯৯৫ সালে তাকে অপহরণ করে, পরে পুলিশি হেফাজতেই হত্যা করা হয়—এর পর সিবিআই তদন্তে ২০০৭ সালে পাঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্ট চারজন পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেয়।

ছবিটি ভারতীয় ক্যাটালগ থেকে সরিয়ে নেওয়ার খবর পাঞ্জাবের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জুগিয়েছে। শিরোমনি আকালি দলের সভাপতি সুখবীর সিং বাদল এটি ‘স্মৃতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন। কংগ্রেস নেতা সুখপাল সিং খাইরা ছবিটি পুনরায় প্ল্যাটফর্মে আনার দাবি তুলেছেন এবং বলেছেন, চলচ্চিত্রে তুলে ধরা মানবাধিকার লঙ্ঘন আদালতের রায়ের সঙ্গেই মিল রয়েছে। আম আদমি পার্টির সাংসদ মালবিন্দর সিং কাং কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, এই ব্লকের মাধ্যমে তারা পাঞ্জাবের সত্য ঢাকার চেষ্টা করছে। শিরোমনি গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটির প্রধান সচিব কুলবন্ত সিং মানান বলেছেন, জনগণকে ছবি দেখার এবং নিজস্ব মত গঠন করার অধিকার আছে।

এই ঘটনার পরে ভারতের চলচ্চিত্র নীতি ও সেন্সরশিপ নিয়ে ‘দ্বিমুখী নীতি’ ও পক্ষপাতের অভিযোগ নতুন করে জোরালো হয়েছে। সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলছেন, যেখানে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ (২০২২), ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ (২০২৩) বা ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ (২০২৫) জাতীয় বিতর্কিত ছবিগুলো নির্বিঘ্নে প্রদর্শিত ও স্ট্রিম হয়েছে, সেখানে কেন পাঞ্জাবের বাস্তব ঘটনার ওপর নির্মিত মানবাধিকারভিত্তিক এই চলচ্চিত্র ভারতীয় দর্শকদের কাছ থেকে দূরে রাখা হচ্ছে।

ঘটনার পরিযায়ন কী হবে তা এখন আইনি প্রক্রিয়া ও প্ল্যাটফর্মের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ছবির সমর্থকরা এবং মানবাধিকার কর্মীরা আশা করছেন, দ্রুত ইতিহাস ও সত্যের সন্ধানী এই কাজটি দর্শকদের সামনে ফিরিয়ে আনা হবে, যাতে সমাজ মুক্ত আলোচনা করে অতীতের সঙ্গে সমাধান খুঁজে পেতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo