ভেনেজুয়েলায় তীব্র ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ১৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং কমপক্ষে ১,৫২০ জন আহত হয়েছেন। দেশজুড়ে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ভয়াবহ—ভবন ধসে পড়া, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও জরুরি সেবা ব্যাহত হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ন্যাশনাল অ্যাসেমব্লির সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ এই সাম্প্রতিক হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও প্রায় ২০০ মানুষ আটকা পড়া থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকাজ তৎপরভাবে চালানো হচ্ছে।
সরকারি হিসাব অনুসারে ভূমিকম্পে অন্তত ২৫০টি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপদ্রুত এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজদের খোঁজে ইট-পাথর সরিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। পৌরসভাগুলো স্থানীয় ক্রীড়া স্টেডিয়াম ও খেলার মাঠগুলোকে সাময়িক শিবির হিসেবে ব্যবহার করতে প্রস্তুত করছে, যাতে গৃহহীনদের তাত্ক্ষণিক আশ্রয় দেওয়া যায়।
আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা এমএসএফ (মেদসঁ সঁ ফ্রোঁতিয়ের)-এর ভেনেজুয়েলা শাখার মেডিকেল কোঅর্ডিনেটর হালিমা হুসেইন একটি ভয়েস বার্তায় জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা শহরসহ বেশিরভাগ এলাকায় মোবাইল, ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সংযোগ এখনো সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন। ফলে উদ্ধারকাজ ও স্বেচ্ছাসেবী সহায়তা পৌঁছতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
হালিমা আরও বলেন, বহু পরিবার রাস্তায় সারভাইভের মতো অবস্থায় কাটাচ্ছে—পার্ক, চত্বরে এবং খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে অনেককেই। ঘরবাড়ির ধ্বংস বা জরুরি উচ্ছেদের ফলে অনেকেই ফিরে যেতে পারছেন না; তারা প্রয়োজনীয় সামগ্রী ব্যাগ করে নিয়ে আশ্রয়ে অপেক্ষা করছেন।
পরিস্থিতিকে ঘিরে জাতিসংঘও সমবেদনা জানিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহত ও আহতদের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন এবং জরুরি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
স্থানীয় উদ্ধার ও পুনর্বাসন কাজে ত্রাণসংস্থা ও আন্তর্জাতিক সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। ঘনভাবে পরিদর্শন এবং এনজিওগুলোর সমন্বয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ক্ষতিগ্রস্তদের দুরবস্থার অবসান দেরি될 আশঙ্কা আছে।
সূত্র: আল জাজিরা