কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গോളের ওপর ভর করে ফ্রান্স ৩-০ গোলে ইরাককে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। ম্যাচে কৌতুকের মতো এক সিঙ্গেল দৌড়ে হ্যাটট্রিক মিস করলেও তার দুইটি গোলই দলের জন্য গুরুত্ব রাখে।
প্রথমার্ধে শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচে পা জড়িয়ে রেখে ১৪ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন এমবাপে। একটি শট ক্লিয়ার করতে না পারায় ডিফেন্ডারের ভুল পরে বল পেয়ে বলটি অলিসের পাস থেকে এমবাপে জালে জড়ান। ওই গোলটিতে তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সাথে সমান হতে ছোঁয়াও পান।
৫৪ মিনিটে ইরাক গোলকিপার বাসিলের মারাত্মক ভুল থেকে ফরাসিরা বাড়তি সুবিধা পায়। মাঝপ্লেস থেকে আসা পাসটি গোলকিপারের কাছে পৌঁছানোর পরে তিনি পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হন; কাছেই থাকা দেম্বেলে বলটি পান এবং নিচু কিবলে এমবাপেকে সামনে ফাঁকায় দেখে নিখুঁত পাস পাঠান। এমবাপে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে প্রবেশ করিয়ে নিজের টুর্নামেন্টে চতুর্থ গোল হিসেবে রেকর্ড পূর্ণ করেন এবং ফ্রান্সকে ২-০ এগিয়ে দেন।
৬৬ মিনিটে দেম্বেলের নিজেই গোল করে ব্যবধান বাড়ায় ফ্রান্স। ওলিসে থেকে আসা চমৎকার পাস গ্রহণ করে দেম্বেলে ডি-বক্সের ডানপাশ থেকে জোরালো শটে বল পোস্টের বামদিক দিয়ে জালে জড়ান এবং ম্যাচের ফল অনিশ্চয়তা দূর করেন।
ম্যাচের এক দিকফেরাতেই এমবাপে একটি দুর্দান্ত একক আক্রমণ চালান—মাঝভাগ থেকে দৌড় করে দুই ডিফেন্ডার কাটিয়ে সামনে এসে বাঁদিকে থেকে শট নেওয়ার চেষ্টা করলেও বলটি বার অতিক্রম করে মাঠের বাইরে চলে গেলে হ্যাটট্রিকের সুযোগ হাতছাড়া হয়।
এর আগের ম্যাচে সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপ গতানুগতিক সূচনা করা ফরাসিরা এখন দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘আই’ গ্রুপ থেকে আগেভাগে নকআউটের টিকিট পোক্ত করেছে। বজ্রপাতের আশঙ্কার কারণে খেলাটি সোয়া দুই ঘণ্টা দেরিতে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত এ দিন বড় জয় নিশ্চিত করে তারা।
এম্বাপে এখন চলতি টুর্নামেন্টে চারটি গোল করে গোল্ডেন বুট প্রতিযোগিতায় চাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং ফ্রান্সের বিশ্বকাপ ইতিহাসে তার রেকর্ডও আরও উজ্জ্বল হয়েছে—এবারের গোলটি হিসেবে তিনি বিশ্বকাপে ১৬তম গোল স্পর্শ করেন, যা মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গে তুলনীয়। লিওনেল মেসি এখনও সর্বোচ্চে আছেন।
সামগ্রিকভাবে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ ধারাবাহিক ও কার্যকর ছিল; ডিফেন্সও জরুরি মুহূর্তে মানিয়ে নিয়েছিল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলতে হবে—তাতে সমান বা ব্যবধান বাড়িয়ে তারা আরেক ধাপ এগোবে।