খুলনার সরকারি করোনেশন বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী রাহমা জান্না পরি ব্যাডমিন্টনে তুমুল সাফল্য দেখিয়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ টুর্নামেন্টে থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে একক ও দ্বৈত উভয় বিভাগেই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এখন তার লক্ষ্য—জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ঘরে নিয়ে আসা।
অভিযান শুরু হয়েছে কড়াকড়ি অনুশীলন দিয়ে। এককে নিজ দক্ষতা বাড়ানোসহ দ্বৈত জুটিতেও চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে সে বেছে নিয়েছে খুলনার আরেক কৃতি কিশোরীর, জেলা পর্যায়ের রানার-আপ তাসনিয়া ইসলাম অর্ণাকে। দুজনই বর্তমানে খুলনার প্রসিদ্ধ বাপ্পি ব্যাডমিন্টন একাডেমির তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এককে তার কোচ রথীন্দ্রনাথ হালদার এবং দ্বৈতে তত্ত্বাবধানে রয়েছেন জান্নাতুস নিহিমা—এই দুই প্রশিক্ষকের নির্দেশনায় জাতীয় পর্যায়ে জয়ই এখন তাদের লক্ষ্য।
পরি ছোট থেকেই খেলাধুলার প্রতি ঝোঁক নিয়ে বড় হয়েছে। তার প্রথম দিনগুলোর খেলা দেখে অনুপ্রাণিত করেছিলেন বড় ভাই আব্দুর রহমান সাবাব। নগরীর টুটপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রারম্ভিক শিক্ষা লাভের সময় থেকেই লেখাপড়া ও খেলাধুলায় তিনি নানা প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জিতেছেন, তবে ব্যাডমিন্টনেই সবচেয়ে বেশি নাম করে উঠেছেন। করোনেশন বিদ্যালয়ে পড়ার সময় আন্তঃস্কুল ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ে তিনি রানার-আপও হয়েছেন।
সাম্প্রতিক বিভাগীয় পর্যায়ের খেলায়, গত ২০ মে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের ইনডোর কোর্টে পরি এককে মাগুরা জেলা দলকে হারিয়ে এবং দ্বৈতে বাগেরহাট জেলা দলকে পরাজিত করে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এই বিজয় তাকে জাতীয় টুর্নামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার আরও আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।
পরি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলায় বলেন, “ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা আমার প্রধান আকর্ষণ। এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য জাতীয় স্তরে একক ও দ্বৈত—দুই বিভাগেই মুকুট জেতা। কোচদের নির্দেশনায় প্রতিদিন কঠোর অনুশীলন করছি, ইনশাআল্লাহ সফল হবো।”
পরির পরিবারও গর্বিত। স্যার ইকবাল রোডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী দম্পতি মোঃ সেলিম ও সুবর্ণা মোস্তফার একমাত্র কন্যা পরি দেশের নাম উজ্জ্বল করবে—এটাই এলাকার অভিভাবক ও প্রতিবেশীদের প্রত্যাশা। তার প্রাক্তন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোর্তজা আফরোজ জানান, পরি ছিলেন তাদের স্কুলের মেধাবী ও ক্রীড়াবান শিক্ষার্থী; স্কুলের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা ও মিষ্টিমুখ করানো হয়েছিল।
তবে পরির বর্তমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করোনেশন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেহানা পারভিনকে ফোনে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি কড়া স্বরেই বলেন ক্রীড়া শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে এবং মন্তব্য নিতে হলে স্কুলে এসে কথা বলার অনুরোধ করেন।
খেলোয়াড়, পরিবার ও বিদ্যালয়—সব মিলিয়ে খুলনা এখন রাহমা জান্না পরির সাফল্যে উৎসবমুখর। সবাই বিশ্বাস করেন, কঠোর অনুশীলন ও সমর্থনের ফলে খুব শিগগিরই সে জাতীয় ট্রফি নিয়ে দেশের এ গর্ব হয়ে ফিরে আসবে।