1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
রামপুরায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান ওরফে ‘কাইল্যা পলাশ’ গুলিবিদ্ধ অর্থমন্ত্রী: ৪১ লাখ নারী পাবেন ফ্যামিলি কার্ড — বাছাই হবে নিরপেক্ষভাবে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: ৮০% পদ নারীদের জন্য সংরক্ষিত দুই বছরে দেশের ৯০% জনগোষ্ঠীর কাছে ৫জি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা যশোরসহ চার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হবে জলবায়ু রোধে ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন করবে সরকার যশোরসহ চার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হবে সরকার ঘোষণা: ৫ বছরে ২০ হাজার কিমি নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন শপিংমল ও দোকানপাট রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার নতুন সিদ্ধান্ত বাজেটে বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব

উদ্বোধনী উৎসবের ছায়ায় মেক্সিকো সিটিতে সংঘর্ষ ও বিক্ষোভ

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

মেক্সিকো সিটিতে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এ বছরের ফুটবল বিশ্বকাপ। ঐতিহাসিক এসতাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে গানের তালে তালে হাজারো দর্শক উৎসবে মেতে ওঠেন, তবে স্টেডিয়ামের বাইরে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র—সমর্থক ভিড়, ফ্যান জোনে বিশৃঙ্খলা ও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ উদ্বোধন দিনটিকে অস্থির করে তোলে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তুললেন কলম্বিয়ার পপ তারকা শাকিরা ও নাইজেরিয়ার শিল্পী বার্না বয়; তারা টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল গান ‘দাই দাই’ পরিবেশন করেন। প্রায় ৮০ হাজার দর্শকে পূর্ণ স্টেডিয়ামে তাঁদের পরিবেশনা অনবরত উচ্ছ্বাস জাগিয়েছে। মাঠে বিশ্বকাপ ট্রফির বিশাল মডেল, নৃত্যশিল্পীদের দৃশ্য এবং আতশবাজির ঝলক অনুষ্ঠানকে আরও তেজস্বী করে তুলেছিল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মাঠে স্বাগতিক মেক্সিকোর আনন্দ বাড়ল—দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ২-০ গোলে জয় তুলে নেয় সহ-আয়োজকেরা। স্টেডিয়ামের ভেতরে উৎসবমুখর পরিবেশ স্পষ্টভাবেই চোখে পড়ে; এক প্রতিক্রিয়ায় সমর্থক ইনগ্রিদ ওরোজকো বলেন, ‘‘মেক্সিকোতে তো ইতিমধ্যেই উৎসব শুরু হয়ে গেছে।’’, আর গুস্তাভো রামিরেজ মন্তব্য করেন, ‘‘অসাধারণ।’’

তবে স্টেডিয়ামের বাইরের পরিবেশ ছিল টানাপড়েনপূর্ণ। মেক্সিকো সিটির কেন্দ্রীয় সোকালো স্কোয়ারে স্থাপিত অফিসিয়াল ফ্যান জোনে ম্যাচ দেখার জন্য হাজারো মানুষ জড়ো হলে প্রবেশপথে তীব্র ভিড় সৃষ্টি হয়। ধাতব ব্যারিকেডের কারণে চলাচল কঠিন হয় এবং ভিড় বড়েই বিশৃঙ্খল আকার ধারণ করে।

এক পর্যায়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে থাকা এক নগর কর্মকর্তা মেগাফোনে চেচিয়ে বলেন, ‘‘ধাক্কাধাক্কি বন্ধ করুন, এখানে শিশুরাও আছে। আপনারা পশুর মতো আচরণ করছেন!’’ এই বক্তব্য ভিড়ের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ায়। ৪৯ বছর বয়সী ভিক্টর গোমেজ অভিযোগ করেন, ‘‘ভেতরে ঢুকতে আমাদের এক ঘণ্টা লেগেছে। পুরো পরিস্থিতি ছিল বিশৃঙ্খল, বের হওয়াও কঠিন ছিল। আমরা কেবল দূর থেকে একেবারে শেষ প্রান্তের ছোট্ট পর্দা দেখতে পেয়েছিলাম।’’

ফ্যান জোনের ধারণক্ষমতা পুরণ হয়ে যাওয়ার কথা স্থানীয় প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায় এবং অধিকাংশ সমর্থকদের নিকটস্থ অন্য ভেন্যুতে যাওয়ার অনুরোধ করে।

উদ্বোধনী দিনে একাধিক সামাজিক ও রাজনৈতিক গ্রুপও স্টেডিয়ামের বাইরে অবস্থান নেয়—বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা, নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজন এবং ছাত্র আন্দোলনকারীরা সকালের পর থেকেই বিক্ষোভে ছিলেন। ম্যাচ শুরুর পর কিছু বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে; সেই সংঘর্ষে কয়েকজন যুবক গাড়ির কাচ ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং অশ্বারোহী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়।

উদ্বোধনী উৎসব ও মাঠের জয়ের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি বাইরে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ-দৃশ্য বিশ্বকাপের প্রথম দিনটিকে মিশ্র অনুভূতির করে তোলে—একদিকে উৎসব ও খুশি, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও সংগঠনের চ্যালেঞ্জ। কর্তৃপক্ষের নজর এখন ভিড় ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করায়।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo