1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন

২০২৬ বিশ্বকাপ: পাঁচটি সম্ভাব্য ‘ডার্ক হর্স’

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র দু’দিন। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডার যৌথ আয়োজনে ইতিহাসের বৃহত্তম টুর্নামেন্টের পর্দা উঠতে চলেছে — এবং চোখ থাকবে সোনালি ট্রফির প্রতি। বিশ্বসেরা তারকারা ইতোমধ্যেই আমেরিকায় পৌঁছতে শুরু করেছেন। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স বা স্পেনের মতো বড় দলগুলো প্রত্যাশিতভাবে ট্রফি নিয়ে বাড়ি ফিরতে চায়, কিন্তু কিছু দল আছে যারা চাপ কম থাকার কারণে ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে — ফুটবলে এই দলগুলোকেই বলা হয় ‘ডার্ক হর্স’। নিচে পাঁচটি এমনই সম্ভাব্য দল নিয়ে সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ।

নরওয়ে: হালান্ড-ওডেগার্ড—একটি বিপজ্জনক সংমিশ্রণ

নরওয়ে ১৯৯৮ সালের পর আবার বিশ্বকাপ মঞ্চে ফিরে এসেছে এবং তারা বড় দলগুলোর কাছে এখনই আতঙ্কের নাম। আক্রমণে এরলিং হালান্ড যে ধাঁচের ধ্বংসলীলা সৃষ্টি করতে পারেন তা সকলেরই জানা। মাঝমাঠে মার্টিন ওডেগার্ডের নিখুঁত পাসিং দিয়ে দলটি আক্রমণ চালায়, সঙ্গে আছে তরুণদের উদ্দীপনা—অস্কার বব, অ্যান্টোনিও নুসা ও জুলিয়ান রায়সন। কোচ স্টালে সোলব্যাকেনের নকশা এবং গতিশীল আক্রমণভাগ নরওয়েকে মাত্রাতিরিক্ত আঘাত হানতে সক্ষম করছে। নরওয়ে যদি ভালো কণ্ঠে শুরু করতে পারে, নকআউট পর্বে তাদের সামনে কোনো পরাশক্তিই স্বস্তিতে থাকবে না।

কলম্বিয়া: লাতিন বোর্ডের সামর্থ্য আর অভিজ্ঞতার মেলবন্ধন

কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বারণীয় ফল দেখালেও কলম্বিয়া ঘুরে দাঁড়িয়েছে। লুইস দিয়াজের তাৎপর্যপূর্ণ ড্রাইভ আর হামেস রদ্রিগেসের অভিজ্ঞতা দলের আক্রমণে প্রাণ ঢালেছে। উত্তর আমেরিকার আবহাওয়ায় তুলনামূলকভাবে বেশি অভ্যস্থ কলম্বিয়ানরা বিশাল সমর্থক সমুদ্র পেতে পারলে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে। গ্রুপে শক্ত দল থাকলেও কলম্বিয়া যদি গ্রুপে ভালো অবস্থান করে, সেমিফাইনাল পর্যন্ত তাদের পথ কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।

জাপান: উচ্চপদের সামুরাই—প্রতি ম্যাচে শৃঙ্খলিত আক্রমণ

গত বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে জাপান সবাইকে চমক দিয়েছিল; এবারে তাদের পরিণতাও চোখে পড়ে। বাছাইপর্বে তারা প্রায় শীর্ষফর্মেই ছিল—গোলকিপিং স্থিতিতে এবং প্রতিরক্ষায় ধারালো। তাকেফুসো কুবোর সৃজনশীলতা ও আয়াসে উয়েদার ধারালো ফর্ম জাপানের আক্রমণকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। তাদের হাই-প্রেসিং ফুটবল বড় দলের মধ্যে বিভ্রাট সৃষ্টি করতে পারে; সঠিক দিনগুলোতে জাপান যে কাউকেই চাপে রাখতে পারে।

মরক্কো: পুনরাবৃত্তি সম্ভব কি?

২০২২ কাতারে মরক্কো সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠে পুরো বিশ্বকে অবাক করেছিল। এবারও তারা একই মনোবল ও কঠোর সংমিশ্রিত স্কোয়াড নিয়ে এসেছে—আশরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজ ও বিলাল এল-খানৌসের মতো খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স তাদের প্রতিটি বিভাগে ভারসাম্য এনে দিয়েছে। যদি তারা কাতারের সেই অদম্য মানসিকতা ধরে রাখতে পারে, বড় দলগুলোর জন্য মরক্কো অতীতে দেখানো মতোই বিপজ্জনক হতে পারে।

সুইজারল্যান্ড বনাম সেনেগাল: অভিজ্ঞতা বনাম গতি

সুইজারল্যান্ড—মুরাত ইয়াকিনের দল—ইউরো কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে কষ্ট দিয়েছে এবং তারা ট্যাকটিক্যাল পারদর্শিতায় শক্তিশালী। অপরদিকে সেনেগালকে অনেকেই সম্ভবত হালকাভাবে নিচ্ছে, কিন্তু সাদিও মানে, ইসমাইলা সার ও নিকোলাস জ্যাকসনের সংমিশ্রণ যে কোন ডিফেন্সের জন্য সমস্যা বানাতে পারে। সুইসদের অভিজ্ঞতা ও সেনেগালিদের রাফট গতি মিললে উভয় দলে নকআউট পর্বে চমকের সুযোগ রয়েছে।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা: ডার্ক হর্সরা সবসময়ই রোমাঞ্চ যোগায়

বিশ্বকাপ ইতিহাসে আন্ডারডগরা বহুবার фавারিটদের চমকে দিয়েছে—২০২২-এ মরক্কোর সেমিফাইনাল যাত্রা, ২০১৮-এ ক্রোয়েশিয়ার অবিশ্বাস্য পথ এবং ২০০২-এ দক্ষিণ কোরিয়ার নাটকীয় পারফরম্যান্স—এসবই দেখায় যে ট্যাগ-ফেভারিট যাই হোক না কেন, নিখুঁত কৌশল, দলগত মানসিকতা ও একদিনের দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্সে সবকিছু বদলে যেতে পারে।

অর্থাৎ, ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুতেই যে দলগুলোকে অনুচ্ছেদ হিসেবে দেখা হবে, তারা নন—কিন্তু টুর্নামেন্ট চলার সঙ্গে সঙ্গে অনুপ্রেরণা, কৌশল ও একাগ্রতা মিশে অনেক নবদিগন্ত খুলে দিতে পারে। জিতবে সেই দল যাদের পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা আর আত্মবিশ্বাস মিলবে সঠিক সময়ে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo