1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান উজানের পাহাড়ি ঢলে ফুলে ফেঁপে উঠেছে তিস্তা নদী উত্তরের চার জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা শিক্ষামন্ত্রী: বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সনদ নয়, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার কেন্দ্র হতে হবে ধানমন্ডিতে ১০ তলা থেকে পড়ে ৮ বছর বয়সী গৃহকর্মীর মৃত্যু পুলিশ ইউনিফর্মে বদল: জেলা-ইউনিটে গাঢ় নীল ও খাকি, মহানগরে লাইট অলিভ ধানমন্ডিতে ১০তলা ভবনের বারান্দা থেকে পড়ে ৮ বছরের গৃহকর্মীর মৃত্যু গুজব ও এআই-ভিত্তিক বিভ্রান্তি রোধে সরকার কঠোর হচ্ছে শিক্ষামন্ত্রী: সারাদেশে একযোগে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে বোর্ড পরীক্ষা হবে সাবেক ডিবি এডিসি গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে

ব্রাজিলের ‘৭-১’ ট্র্যাজেডি কি এবার ট্রফিতে বদলে যাবে?

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

ফুটবলে কিছু সংখ্যা কেবল পরিসংখ্যান থেকে অনেক দূরে — তারা স্মৃতি, গৌরব, ব্যথা বা অভিশাপে পরিণত হয়। ব্রাজিলের জন্য ‘৭’ এমনই একটা সংখ্যা। পেলের ১০ নম্বর, রোনালদো-রোমারিওর গোল, রোনালদিনিওর হাসি—এসব ঐতিহ্যের মধ্যে ২০১৪ সালের মিনেইরাওতে জার্মানির কাছে আত্মহোতাকরণের সেই ৭-১ হার একটি কালো অধ্যায় হিসেবে থেকে গেছে।

এক ম্যাচ মাত্র ছিল না এটি; তা ছিল জাতীয় ফুটবল অহংকারে আঘাত। সেই রাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়া দলীয় কাঠামো, দ্রুত ছড়ানো হতাশা ও মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ হারানো—সবই মিলিয়ে ব্রাজিলের ক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছিল। এরপর থেকে যখনই বিশ্বকাপ আসে, ওই স্কোরলাইন মিম, আলোচনা ও বিদ্রুপের মতোভাবে ফিরে আসে।

কিন্তু ফুটবলের সৌন্দর্যই হল, একই ঘটনা আজ অপমান, কাল হয়ে উঠতে পারে প্রেরণা। ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি, আর সেই কাউন্টডাউনে ব্রাজিলের সামনে একটা বড় প্রশ্ন—“৭ সালের ট্র্যাজেডি কি এবার ট্রফিতে রূপ নেবে?”

সেই ৭-১ হার শুধু কেজি বা ফিটনেসের সমস্যা ছিল না; তা ছিল মসৃণ দলের অভাব, positional শৃঙ্খলা না থাকা এবং মানসিক চাপ সামলাতে অক্ষমতার পরিচায়ক। সেই শিক্ষা থেকেই ব্রাজিলে ধীরে ধীরে বদল এসেছে: ব্যক্তিগত জাদু ছাড়াও এখন দরকার পজিশনাল সমতা, দ্রুত রিকভারি, প্রেসিং ও নিয়ন্ত্রিত মিডফিল্ড।

কার্লো আনচেলত্তির অধীনে বর্তমান সেলেসাও তারকার আবেগের সঙ্গে কৌশল ও ভারসাম্য যোগ করার চেষ্টা করছে। আনচেলত্তির বড় সুবিধা হল বড় ড্রেসিংরুমে তার কাজ করার অভিজ্ঞতা—এটাই তাকে খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও দায়িত্ব বঝাতে সাহায্য করতে পারে।

এই দলের আকর্ষণ একবারে আক্রমণশক্তি—ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গতি ও একাধিকতা, রাফিনিয়ার ডান দিক থেকে কাট-ইন ও সেট-পিস সক্ষমতা, আর নেইমারের যে মানসিক ও প্রযুক্তিগত প্রভাব তা সময়ে সময়ে ম্যাচের ভাগ্যও বদলে দিতে পারে। তবে আক্রমণের সঙ্গে রক্ষণে স্থিতিশীলতা না থাকলে বড় টুর্নামেন্টে টিকে থাকা কঠিন।

২০১৪-এর শিক্ষাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: মাঝমাঠ হারালে দল ভেঙে পড়ে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সৌন্দর্যের চেয়ে জরুরি টিকে থাকার ক্ষমতা—এক ভুল পাস বা ক্লিয়ারেন্সে সব শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই এবারের ব্রাজিলকে আক্রমণের আগুন আর রক্ষণভাগের ঠাণ্ডা মাথা একই সঙ্গে রাখতে হবে।

আনচেলত্তি জানেন কখন বল বেশি রাখবেন, কখন পাল্টা আক্রমণ চালাবেন; সেই অভিযোজন ক্ষমতাই এই টিমকে অন্যবারের তুলনায় বেশি বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। তবুও আসল পরীক্ষা হবে চাপের মুখে তাদের স্থির থাকা—মাঠে এবং স্মৃতির সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের অতীতকে অদৃশ্য করতে পারবে কি তারা।

জার্মানির সেই সাত গোল মুছে ফেলা যায় না, কিন্তু নতুন সাফল্য পুরোনো ক্ষতকে নতুন অর্থ দিতে পারে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিল বিশ্বকাপ জেতে নি; তাই এবারের টুর্নামেন্টটি কেবল ছবি বদলানোর নয়, ইতিহাস পুনরুদ্ধারেরও সুযোগ। ভিনিসিয়ুসের এক ঝাঁপ, নেইমারের একটি পরিষ্কার পাস, রাফিনিয়ার একটি কাট-ইন—এসব মিলিয়ে কি ৭-১-এর দুঃস্বপ্ন শেষ করে ষষ্ঠ ট্রফির স্বপ্ন সাজাতে পারবে ব্রাজিল? বিশ্বকাপ মাঠের উত্তরটা শিগগিরই বলবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo