1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
মিঠাপুকুরে মদপানে ৩ জনের মৃত্যু, একজন রংপুর মেডিকেলে ভর্তি শারীরিক অসুস্থতা জানিয়ে পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান গোপালগঞ্জে ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ ১৯ বছরের নারী গ্রেফতার আট জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত ১০ দিনে পদ্মা-যমুনা সেতুতে টোল সংগ্রহ প্রায় ৬৪ কোটি টাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সন্ত্রাসীর আস্তানা ভেঙে ফেলা হবে ঈদে ১০ দিনে পদ্মা-যমুনা সেতুতে টোল আয় প্রায় ৬৪ কোটি টাকা হজ শেষে দেশে ফেরত ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি দেশ গড়তে সবাইকে সচেতনতার আহ্বান দিলেন তারেক রহমান

বিশ্বকাপে যে নতুন নিয়মগুলো দেখা যাবে

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

মাত্র ১০ দিনের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথ আয়োজিত ফুটবল বিশ্বকাপ — এবং এই বার শুধু দলের সংখ্যা নয়, খেলাটির নিয়মকানুনেও বড় পরিবর্তন আসছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (ইফাব) কয়েকটি নতুন নিয়ম অনুমোদন করেছে। ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা বলছেন, এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য— বৈষম্য প্রতিরোধ, সময় নষ্ট কমানো, ম্যাচের গতি বাড়ানো এবং খেলোয়াড় ও দর্শকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করা। এশিয়া পোস্টের পাঠকদের সুবিধার জন্য সেসব নিয়ম সহজভাষায় তুলে ধরা হলো।

মুখ ঢেকে কথায় সরাসরি লাল কার্ড

নতুন নিয়ম অনুযায়ী মাঠে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে কেউ যদি হাত, বাহু বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বলে এবং সেটি অপমানজনক বা বৈষম্যমূলক অভিব্যক্তি ইঙ্গিত করে, তাহলে সেই খেলোয়াড়কে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো যাবে। এটি এনে দেওয়া হয়েছে সাম্প্রতিক বিতর্ক এবং অনুকরণীয় আচরণ প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে। তবে ক্লাব সতীর্থদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপচারিতায় মুখ ঢেকে কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে দেখা হবে না।

মাঠ ছাড়লে মিশে যাবে দলীয় প্রতিবাদ

রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যদি কোনো খেলোয়াড় মাঠ ছেড়ে চলে যান, তবে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেওয়া হবে। একই সঙ্গে যদি কোনো টিম অফিসিয়াল খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে উসকানি দেন, তাদের বিরुद्धেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি কোনো দলের আচরণের কারণে যদি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়, তাহলে সেই দলকে ম্যাচটি হারে গণ্য করার বিধান রাখা হয়েছে। কঠোর এই নীতির লক্ষ্য বড় ম্যাচে দলগত প্রতিবাদ ও খেলা থামিয়ে দেয়া প্রতিরোধ করা।

থ্রো-ইন ও গোল-কিকে পাঁচ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন

সময় নষ্ট রোধে থ্রো-ইন ও গোল-কিকে দৃশ্যমান পাঁচ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন চালু করা হচ্ছে। রেফারি হাতে তুলে এই কাউন্টডাউন শুরু করবেন। কাউন্টডাউন শেষ হলেও যদি থ্রো-ইন না নেওয়া হয়, তাহলে বল প্রতিপক্ষের হাতে চলে যাবে; একইভাবে গোল-কিক না হলে প্রতিপক্ষকে কর্নার দেওয়া হবে। এতে ডিফেন্ডার বা গোলরক্ষকদের খেলার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করার সুযোগ অনেকটাই কমবে।

বদলির সময় খেলোয়াড়ের হাতে মাত্র ১০ সেকেন্ড

বদলির ক্ষেত্রে সময় নষ্ট বন্ধে নতুন নিয়ম আনা হয়েছে। বদলির বোর্ড দেখানো হলে মাঠ ছাড়তে খেলোয়াড়ের হাতে থাকবে মাত্র ১০ সেকেন্ড এবং তাকে সবচেয়ে কাছের বাউন্ডারি লাইনের মাধ্যমে মাঠ ছাড়তে হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খেলোয়াড় মাঠ ছাড়তে না পারে, তাহলে বদলি খেলোয়াড় সোজা বদলে নামতে পারবেন না; খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার এক মিনিট পার হওয়ার পর এবং পরবর্তী থেমে গেলে রেফারির সংকেত পেলে তবেই তিনি মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে চোট বা নিরাপত্তাজনিত কারণে ব্যতিক্রম থাকবে।

চিকিৎসা নিলে মাঠে ফিরতে এক মিনিট বিরতি

মেডিকেল স্টাফ যখন মাঠে ঢুকে কোনো আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে চিকিৎসা করেন, সেই খেলোয়াড়কে খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে। এর ধারা রাখা হয়েছে খেলায় অনাকাঙ্ক্ষিত সুবিধা নেওয়া রোধে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে রাখা হয়েছে হতাশাজনক বা গুরুতর অবস্থার জন্য— গোলরক্ষকের চোট, গোলরক্ষক ও আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের কমবিনেশন-ধাঁচের সংঘর্ষ, সতীর্থগুলোর সংঘর্ষ, মাথায় আঘাত বা কনকাশন এবং যদি আহত খেলোয়াড় পেনাল্টি নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে, তবেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

ভিএআর ব্যবহারে সম্প্রসারণ

ভিএআর প্রোটোকলেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কলিনা বলেছেন, ২০১৭ সালে যখন ভিএআর চালু হয়েছিল তখন অভিজ্ঞতা সীমিত ছিল; now সেই প্রোটোকল পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে। নতুন নিয়মে কিছু অতিরিক্ত পরিস্থিতিতে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে— যেমন ভুলভাবে হলুদ দেখানো হয়েছে যেখানে লাল হওয়া উচিত ছিল, ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো হয়েছে, ভুলভাবে দেয়া কর্নার সিদ্ধান্ত তৎক্ষণাৎ সংশোধনযোগ্য হলে এবং সেট-পিস নেওয়ার আগে বল খেলায় যাওয়ার পূর্বে যদি কোনো ফাউল ঘটে। যদি রেফারির স্ক্রীনে দেখা যায় খেলার আগে ফাউল হয়েছে, তবে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে কর্নার বা ফ্রি-কিক আবার নেওয়া হবে।

প্রতিটি অর্ধে পানির তিন মিনিটের বিরতি

২০২৬ বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে দুই অর্ধেই তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক রাখা হয়েছে — সাধারণত অর্ধের মাঝামাঝি, অর্থাৎ প্রায় ২২ মিনিটের দিকে। তবে রেফারির কাছে কিছু নমনীয়তা থাকবে; উদাহরণস্বরূপ ২০ মিনিটের আশপাশে যদি কোনো খেলোয়াড় চোট পান এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তখনও সেই সময়ই বিরতি ঘোষণা করা যেতে পারে।

গোলরক্ষকের চোটকে ‘টাইমআউট’ বানানো যাবে না

গোলরক্ষকের চিকিৎসার সুযোগকে দলীয় ‘টাইমআউট’ বা কৌশলগত আলোচনা করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধের জন্য স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। যখন গোলরক্ষক চিকিৎসার জন্য মাঠে থাকবেন, তখন দুই দলের খেলোয়াড়রা মাঠ ছাড়ে গিয়ে কোচের সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করতে পারবেন না। ফলে এই ধরনের সময় নষ্ট বা কৌশলগত বিশ্রতির সুযোগ সীমিত হবে।

সারসংক্ষেপ

এই নতুন নিয়মগুলো ম্যাচকে আরও সুষ্ঠু, দ্রুত ও নিয়মানুবর্তিতার দিকে ধাবিত করবে— বিশেষত সময় নষ্ট এবং অনৈতিক আচরণ রোধে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এসব নিয়ম প্রয়োগ পরীক্ষা হিসেবে থাকবে, এবং সফল হলে ভবিষ্যতেও এগুলোকে নিয়মিতভাবে দেখা যেতে পারে। দর্শকরা এবার খেলায় গতিশীলতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সুসংহত নিয়ন্ত্রণ দেখার আশা রাখতে পারেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo