বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময় বাকি—এমন সময়ে একের পর এক চোটের খবর আর্জেন্টিনা শিবিরকে কেঁপে তুলেছে। সত্তর চ্যাম্পিয়ন দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা সিরিজ ব্যাপী ইনজুরির সমস্যায় পড়েছেন।
সর্বশেষ ক্ষতি এসেছে মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের। রিপোর্ট অনুযায়ী তার ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে টিয়ার ধরা পড়েছে, ফলে যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে তিনি খেলতে পারবেন না। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে পারেদেসের অংশগ্রহণও এখন অনিশ্চিত বলা হচ্ছে।
এর আগেও জড়িত ছিল লিওনেল মেসি—ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলার সময় বাম হ্যামস্ট্রিংয়ে ব্যথা অনুভব করে তিনি মাঠ ছেড়েছিলেন। পরীক্ষায় গুরুতর ক্ষতি ধরা না পড়ায় সেটা বড় চোট হিসেবে চিহ্নিত হয়নি; মূলত পেশিতে টান ধরা পড়েছে। তবে যাতে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তিনি পুরোপুরি ফিটেই নামতে পারেন, তাকে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে বিশ্রাম দেওয়ার সম্ভাবনা উচিৎ বলে মনে করা হচ্ছে।
গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের আঙুলে ছোট ফাটল থাকলেও অপারেশনের প্রয়োজন পড়েনি এবং আশা করা হচ্ছে তিনি আলজেরিয়ার বিপক্ষের ম্যাচের আগে দেশে ফিরে সুস্থ হয়ে উঠবেন। অন্যদিকে মিডফিল্ডার নিকো পাজের বাঁ হাঁটুর ব্যথা রয়েছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তবে কিছু ভালো খবরও আছে। ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো তার হাঁটুর চোট থেকে অনেকটাই সেরে উঠেছেন এবং এখন পুনর্বাসনের শেষ ধাপে রয়েছেন। ফরোয়ার্ড জুলিয়ান আলভারেজও গোড়ালির সমস্যায়নিয়ে দ্রুতই পুনরায় খেলায় ফিরছেন বলে প্রতিবেদনগুলো জানাচ্ছে।
কিছু খেলোয়াড়ের চোট গম্ভীর: উইঙ্গার নিকোলাস গঞ্জালেসের পেশিতে টিয়ার হওয়ায় প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে তাঁর খেলার সম্ভাবনা খুব কম। ডিফেন্ডার গঞ্জালো মন্টিয়েলের গ্রেড-২ টিয়ারের কারণে উদ্বোধনী ম্যাচে তাঁর অংশগ্রহণও সন্দেহের মুখে। অন্যদিকে নাহুয়েল মোলিনার চোট তুলনামূলকভাবে হালকা, তাই তিনি সময়মতো ফিট হয়ে উঠার আশা রয়েছে। থিয়াগো আলামাদাও ক্লান্তির কারণে পেশিতে টানে ভোগছেন, তবে সে চোটও বড় বলে মনে করা হচ্ছে না।
এসব অনিশ্চয়তার মধ্যে লিওনেল স্কালোনি বিকল্প পরিকল্পনাও সাজিয়ে রেখেছেন। শেষ মুহূর্তে দলে ডাক পড়তে পারে সান্তিয়াগো বেলত্রান, অগাস্টিন গিয়াই, নিকোলাস কাপালদো, নিকোলাস ডমিঙ্গুয়েজ, মাতিয়াস সুলে, ম্যাক্সিম পেরন বা এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার মতো খেলোয়াড়দের।
বিশ্বকাপের এত কাছে এসে ইনজুরির এই ঢেউ নিঃসন্দেহে আর্জেন্টিনা শিবিরের জন্য বড় चिंता হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন সময়টা সাবধানতা ও সুচিন্তিত রোটেশনের—যাতে বড় মঞ্চে দলের সক্ষমতা বজায় রাখা যায় এবং চ্যাম্পিয়নরা দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে পারে।