খুলনায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা যথাযথ মর্যাদা ও আনন্দময় পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রস্তুতিসভার আয়োজন করা হয়েছে। আজ বুধবার (২০ মে) জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জানানো হয়, খুলনায় ঈদুল আযহার প্রধান জামাত সকাল সাতটায় সার্কিট হাউস ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জামাত সকাল আটটায় এবং তৃতীয় ও শেষ জামাত সকাল নয়টায় টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত সকাল সাতটায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ও প্রত্যেক ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে নগরীর প্রতিটি ওয়াড়ে পৃথক ঈদের জামাতের ব্যবস্থা করা হবে। সার্কিট হাউস ময়দান ও টাউন জামে মসজিদে মহিলাদের জন্য আলাদা, পর্দা রক্ষিত স্থান বজায় রেখে বিশেষ জামাতের ব্যবস্থা থাকবে।
ঈদের দিনে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সঠিক রঙ ও মাপে জাতীয় পতাকা উত্তোলন বাধ্যতামূলক হবে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও ‘ঈদ মোবারক’ লেখা ব্যানারে সজ্জিত করা হবে।
রেল, সড়ক ও নৌপথে যেন উৎসব প্রকাশ্যে মানুষের যাতায়াতে কোন বিঘ্ন না ঘটে সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের টহল বাড়াবে। মহাসড়কে ২৫ মে থেকে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে এবং নৌপথে ২৭ মে থেকে ৬ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বালুবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঈদের দিন সরকারি হাসপাতাল, এতিমখানা, সরকারি শিশুমনি নিবাস, কারাগার, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা হবে যাতে ঈদের নামাজ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। এছাড়া স্থানীয় পত্রিকাগুলো তাদের নিজস্ব ব্যবস্থায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, গতবছরের মতো এবারও পবিত্র ঈদুল আযহা আনন্দময় ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে। তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন—ঈদকে ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা করে উদযাপন করতে এবং বিশেষ করে সড়কে যেন যানজট না লাগে সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষের নিয়মিত সহযোগিতা দাবি করেন।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও মসজিদের ইমামরা উপস্থিত ছিলেন।