স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে দেশের হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়নের কাজ জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, আগামী বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে ১ শতাংশ অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রস্তাব থাকায় বাজেট পাস হলে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে এই খাতে যেটুকু প্রয়োজনীয় কাজ ছিল তা হয়নি, কেবল অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে; ফ্যাসিস্ট সরকার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারও এ খাতে নজর দেয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন বাজেট পাস হলে হাসপাতালগুলো দ্রুত আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম পাবে।
মন্ত্রী আরও জানান, আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে খুলনা-সহ দেশের পাঁচটি বিভাগীয় শহরে নির্মাণাধীন পাঁচটি অত্যাধুনিক শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। এতে শিশুস্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত খুলবে বলে তিনি আশা করেন।
হাসপাতালের নিরাপত্তা বৃদ্ধির কথাও মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঈদের পর প্রতিটি উপজেলায় একজন প্লাটুন কমান্ডারের নেতৃত্বে ১০ সদস্য মোতায়েন করা হবে এবং প্রতিটি হাসপাতাল ইউনিটে আনসার সদস্য নিয়োগের ব্যবস্থা হবে।
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের রান্নাঘরে তৈরি কুমড়োর তরকারি চেখে মন্ত্রী তা ফেলে দেন এবং খারাপ মানের খাদ্য গ্রহণ অগ্রহণযোগ্য বলে তুল্য করেন। তিনি সুপারিনটেনডেন্টকে নির্দেশ দেন, রোগীর জন্য রান্না ভালো মানের হওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের ভ্যাকসিন কর্নারে রোগীরা অভিযোগ করেন ভ্যাকসিন অনুপস্থিত থাকার কারণে বাইরে থেকে টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এ কথা শুনে মন্ত্রী ক্ষুব্ধ হন এবং হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ককে জবাবদিহির মুখে বসান। তত্ত্বাবধায়ক প্রথমে বললেও যে সরবরাহ সংকট রয়েছে, ঢাকায় ফোন করে মন্ত্রী জানতে পারেন ভ্যাকসিন আনার জন্য বেগবান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মন্ত্রী তদন্ত করে দায়িত্বহীনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন এবং অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করেন।
পরিদর্শনে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। হাসপাতালের শৌচাগার ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থা রয়েছে বলে মন্তব্য করে কর্তৃপক্ষকে পুরো হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেন এবং নিয়মিত তদারকি করার আহ্বান জানান। রোগীদের দুর্ভোগ ও নানা অনিয়ম দেখে তিনি কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিতও দেন।
জনবল সংকট মোকাবেলায় মন্ত্রী বলেন, ঈদের পর এক লাখ জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। নতুন নিয়োগে চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য কর্মী রাখা হবে এবং বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে আরও চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।