বলিউডের দুই কিংবদন্তির শিকড় বিস্তৃত পাকিস্তানের পেশোয়ারে। রাজ কাপুর ও দিলীপ কুমারের পৈতৃক দুটি বাড়ি আজ নড়বড়ে, সংস্কারের অভাবে যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৪–৫ বছর ধরে সরকারি দিক থেকে বাড়িগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে কোনো লক্ষ্যণীয় যত্ন তেমন চোখে পড়ে না। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ জানিয়েছে, ঝড়বৃষ্টি ও দীর্ঘকালীন অবহেলা বাড়ি দুটির কাঠামোর ক্ষতি বাড়িয়ে তুলেছে; অনেক অংশই এখন নাজুক অবস্থায় আছে। সম্প্রতি ভূমিকম্পের ধাক্কা যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা—অবকাঠামোগত ক্ষতি আরও জোরালো হয়েছে।
স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যদি অবহেলা অব্যাহত থাকে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো মাটির সঙ্গে মিশে যেতে পারে। উল্লেখ্য, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অবস্থিত ওই দুটি বাড়িকে ২০১৬ সালে ‘জাতীয় ঐতিহ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
সরকারি তহবিল দুই দফায় বরাদ্দ করা হলেও তা কার্যত কাজে লাগেনি—এটিও অভিযোগের একটি বড় কারণ। ২০২১–২২ সালে খাইবার পাখতুনখোয়া সরকার বাড়ি দু’টি কেনার জন্য ২.৩৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি বরাদ্দ করেছিল এবং নির্দেশ দেয়া হয়েছিল প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে এগুলো জাদুঘরে পরিণত করতে। পরে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রাদেশিক সরকার ঐতিহাসিক ভবনগুলোর পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের জন্য ৩৩.৮ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি অনুমোদন করে। তবুও অনুদান হাতে না পৌঁছায়—ফলে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পক্ষ থেকেও তৎপরতা দেখা যায়নি।
অযত্ন, ঝড়বৃষ্টি, বাড়িগুলোর আশপাশে গজানো আগাছা ও জমে থাকা আবর্জনা—এসব মিলিয়ে ধীরে ধীরে গ্রাস করছে ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাগুলোকে।
রাজ কাপুরের বাড়িটি পেশোয়ারের খাওয়ানি বাজারে অবস্থিত। এটি ১৯১৮ সালে দেওয়ান বিশ্বেশ্বরনাথ কপূর নির্মাণ করেন এবং রাজ কাপুরের জন্মও এই বাড়িতেই। অন্যদিকে দিলীপ কুমারের বাড়িটি মহল্লা খুদাদাদ এলাকায়, ‘পেশোয়ারি’ ধারার নকশায় তৈরি। একসময় লোকে ক্রসনিপাট ছিল এসব এলাকায়, এখন সেসব গর্জে উঠে ভাঙার পূর্বশঙ্খলা যেন।
দুই তారকাজাতক বাড়ির এই অবনতি শুধু স্থানীয়দের নস্টালজিয়াকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না—এগুলো দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক একটি অংশ হলেও তা দ্রুত হারিয়ে যাওয়ার পথে। সময়মতো অর্থায়ন ও সঠিক সংরক্ষণ না হলে এই ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন রক্ষা করা কঠিন হবে। জরুরি ভিত্তিতে যানজট, জলবায়ু ঝুঁকি ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের দিকে নজর না দিলে ক্ষতি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে।