কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার বাবা ও জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ অভিযোগ করেছেন মেয়েকে ভুলভাবে চিকিৎসা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে দেরি করা হয়েছে।
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে কথা বলতেই কায়সার হামিদ জানান, যখন তিনি মেয়েকে চেন্নাই নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা সেখানে কিছু ভুল চিকিৎসা এবং সময়মতো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে মেয়ের চিকিৎসার সময়ও অবহেলার অভিযোগ তুলে বলেন যে, কিছু জটিলতা সঠিকভাবে জানানো হয়নি।
কায়সার হামিদ বলেন, ‘এখানে দুইটা ভুল ছিল। নম্বর ওয়ান—ভুল ট্রিটমেন্ট হয়েছে। এবং দ্বিতীয়ত কারিনার লিভার ড্যামেজ ও হেপাটাইটিসের মারাত্মক অবনতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে আমাকে জানানো হয়নি।’ তিনি যোগ করেন, যদি তত্ক্ষণাৎ এসব জানা যেত তাহলে সময় করে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের ব্যবস্থা করা যেত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বাংলাদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের সুসংগঠিত সিস্টেম বা সেটআপ নেই—এমনটি তাঁকেও জানানো হয়নি। এই বিষয়টি প্রথম থেকেই স্থানীয় চিকিৎসকদের দ্বারা পরিবারের কাছে বলা উচিত ছিল বলে দাবি করেন কায়সার হামিদ।
বাবার কথায়, যদি আগে থেকেই বলা হয়েছে যে দেশে এই চিকিৎসা সম্ভব নয়, তাহলে তারা আরও আগেই তাকে ভারতের উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠাতে পারতেন। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক চিকিৎসার মতো এখানকার কিছু প্রক্রিয়া দিয়ে সময় কাটানো হয়েছে; পরবর্তীতে ইনফেকশন বাড়লে তখনই তাকে ভারতে নেওয়া হয়।’
কায়সার হামিদ জানান, তার বড় ভাই বিদেশ থেকে দেশে আসার পর তারা এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
কারিনা কায়সার শুক্রবার (১৫ মে) ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি লিভার সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন। ভারতে নেওয়ার আগে তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হলে রাজধানীর এভারকেয়ারে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তায় গত সোমবার রাতে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই নেওয়া হয়, সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে।