1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
১৪ জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে, সতর্কতা জারি সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তাব নিয়ে আত্মসমালোচনায় তাসনিম জারা সারাদেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পাঁচ বিভাগের শিলাবৃষ্টির আভাস প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য পাটজাত ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস দেবে সরকার পদ্মায় টহলরত পুলিশের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ পুলিশের ইউনিফর্মে পরিবর্তন: আগের গাঢ় নীল ও জলপাই রং ফেরানো হচ্ছে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রকাশ করলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত: সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ ময়মনসিংহে কলেজছাত্র ইকবাল হত্যা মামলায় ৭ জনের ফাঁসি পুলিশের পোশাক ফের বদল: গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রং ফিরছে ডা. আহমদ হোসেনকে ছুরিকাঘাতে: ২৪ ঘণ্টায় প্রধানসহ ৫ জন গ্রেফতার

প্রবাসী আয়ে ফের রিজার্ভ ছাড়ালো ৩৫ বিলিয়ন ডলার

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬

গত মার্চ মাসে বাংলাদেশে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ধারা চলতি এপ্রিলেও অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও ডলার কিনতে শুরু করেছে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধীরে ধীরে বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী, এই রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। এক মাস আগে, ১৬ মার্চ, মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার এবং হিসেবে হিসাবে ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক মাসের মধ্যে রিজার্ভ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে পুরো রিজার্ভের যে অংশ ব্যবহারযোগ্য, সেটি মোট রিজার্ভের সমান নয়। স্বল্পমেয়াদি দায় ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে দেশের প্রকৃত বা নেট ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হয়, যা দেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের হিসাব করে, যেখানে আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব ও অন্যান্য কিছু অপ্রয়োজনীয় হিসাব বাদ দেওয়া হয়। এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হলেও, বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র জানায় বর্তমানে দেশের এই ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ রয়েছে প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে আনুমানিক ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরে হিসাব করলে, এ রিজার্ভ দিয়ে দেশের প্রয়োজনীয় আমদানি পাঁচ মাসের বেশি চালানো সম্ভব। সাধারণত, অন্তত তিন মাসের আমদানি খরচের সমপরিমাণ রিজার্ভকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অতীতে, যখন রিজার্ভ চাপে পড়ে তা ১৪ বিলিয়ন ডলার নিচে নেমে গিয়েছিল, তখন বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর, নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কমিয়ে দেন। পাশাপাশি হুন্ডি ও অর্থপাচার ঠেকানোর জন্য নানা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয় ও বিভিন্ন উৎস থেকে ডলার সরবরাহ বাড়ানো হয়। এর ফলে রিজার্ভ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে আসে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশকে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ সমৃদ্ধ হচ্ছে এবং রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি বলেন, বাজারে ডলারের দাম যাতে খুব বেশি না পড়ে, তা নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনছে, ফলে রিজার্ভ পরিস্থিতি ভালো। তবে, ডলারের দাম খুব বেশি কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার, তখন ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। তবে পরে ঋণ অনিয়ম, অর্থপাচারসহ নানা কারণে রিজার্ভ কমে যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, সরকারের পতনের সময়, রিজার্ভ নেমে আসে ২৫.৯২ বিলিয়ন ডলার, যা আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলার। তখন বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় ও ডলের দাম ১২০ টাকার ওপরে উঠে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তখন বিভিন্ন ধরনের আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে, দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার পাশাপাশি, প্রবাসী আয়ের উৎস বাড়ানোর ও আমদানির ওপর বিধিনিষেধ শিথিলের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে থাকায় রিজার্ভ আবারও পুনরুদ্ধার হতে শুরু করে।

চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে দেশে পাঠানো হয়েছে ১৭৯ কোটি ডলার, যা গত বছরের সেই সময়ের তুলনায় ২১.৫ শতাংশ বেশি। এই ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে ৫৬১ কোটি ডলার কিনেছে ব্যাংকগুলো থেকে, যার ফলে রিজার্ভ আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরছে।

অন্তর্বর্তী বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা থাকায় জ্বালানি তেলের দাম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রিজার্ভের বৃদ্ধি অনেকটাই স্বস্তিদায়ক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo