1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
পুলিশের ইউনিফর্মে পরিবর্তন: আগের গাঢ় নীল ও জলপাই রং ফেরানো হচ্ছে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রকাশ করলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত: সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ ময়মনসিংহে কলেজছাত্র ইকবাল হত্যা মামলায় ৭ জনের ফাঁসি পুলিশের পোশাক ফের বদল: গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রং ফিরছে ডা. আহমদ হোসেনকে ছুরিকাঘাতে: ২৪ ঘণ্টায় প্রধানসহ ৫ জন গ্রেফতার পুলিশ ইউনিফর্মে ফের রঙ পরিবর্তন: আগের নীল-জলপাই সংমিশ্রণ ফেরানোর প্রস্তাব টেকনাফে পাহাড় থেকে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার পুলিশের পোশাকের রং পরিবর্তনে নতুন উদ্যোগ, আগের রঙ ফিরছে নওগাঁয় পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ধীরেধীরে রহস্য উন্মোচন মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রকাশ করলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত: সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে কারো অনুমতি ছাড়া মোবাইল বা ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং তদন্ত ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে। তিনি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত জবাবে এ তথ্য জানান।

প্রশ্নটি করেছেন নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অনানুমানিক ভিডিও ধারণ ও প্রচারের সঙ্গে হুমকি-চাঁদাও সম্পৃক্ত হচ্ছে—এটির বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় কী প্রতিরোধমূলক, আইনগত ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী পরিকল্পনা রয়েছে তা জানতে চান।

জবাবে মন্ত্রী জানান, সংসদে গত ১০ এপ্রিল পাস হওয়া ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন বা সেক্সটরশনের উদ্দেশ্যে তথ্য, ভিডিও বা চিত্র প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচারণা একটি অপরাধ হিসেবে নির্ধারিত। এ ধারা (২৫) অনুযায়ী সাধারণ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড, আর ভুক্তভোগী নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা বিশ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। চাঁদাদির বিষয়টি সাইবার স্পেসে প্রতারণা (ধারা ২২) হিসেবে বিবেচিত হবে, যেখানে কঠোর সাজা—সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা পঞ্চাশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড—নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রযুক্তিগত ও কার্যকর প্রতিরোধে আইন অনুযায়ী জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ও ন্যাশনাল সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। এজেন্সির মহাপরিচালক ক্ষতিকর কন্টেন্ট অপসারণ বা ব্লকের নির্দেশ দিতে পারবেন এবং বিটিআরসিকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করতে পারবেন (ধারা ৮, ৯)। জরুরি ক্ষেত্রে পরোয়ানা ব্যতীত তল্লাশি, কম্পিউটার ও অন্যান্য উপকরণ জব্দ এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও আইন দিয়েছে (ধারা ৩৫)।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে আইনগত কাঠামো আরও শক্ত করা, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সার্টিফায়েড বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির ক্ষমতা ও মনিটরিং বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো শক্ত করা রয়েছে। ব্লক বা অপসারণকৃত কন্টেন্ট সম্পর্কে স্বচ্ছতার স্বার্থে তৎক্ষণাৎ ট্রাইব্যুনাল অনুমতি নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।

তদন্ত সক্ষমতা বাড়াতে এজেন্সির অধীনে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হবে, যাতে ভিডিওর উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় ও ডিভাইস দ্রুত নির্ণয় করা সম্ভব হবে। আইন অনুসারে তদন্তের সময়সীমা ৯০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত থাকায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে (ধারা ৩২)। বিদেশ থেকে পরিচালিত অপরাধ শনাক্ত ও বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বাড়ানো হবে; প্রয়োজন হলে পারস্পরিক সহায়তা আইন প্রয়োগ করে অপরাধীকে সনাক্ত করে দায়ের আওতায় আনা হবে (ধারা ৪৮ ও ৪(২))।

মন্ত্রী লিখিত জবায়ে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, অননুমোদিত ভিডিও ধারণ ও প্রচার রোধে আইনি, প্রযুক্তিগত ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মিলিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এসব অপরাধ রোধে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নজরদারি ও দ্রুততর তদন্ত ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo