1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
শিগগিরই মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযান শুরু করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পয়লা বৈশাখে শুরু ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ — কে পাবেন, কী সুবিধা? মাদক নির্মূলের জন্য শিগগিরই বিশেষ অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু — কে পাবেন, কীভাবে নিবন্ধন করবেন বিচারপতি রেজাউল হাসানের পদত্যাগগ্রহণ করলেন রাষ্ট্রপতি শিক্ষা ক্যাডারে বড় রদবদল, ওএসডি হলেন মাউশি মহাপরিচালক দেশে প্রথমবার ‘নুসুক কার্ড’ বিতরণের উদ্যোগ, হজ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত ঢাকাসের দিল্লিকে সতর্কতা: শেখ হাসিনার বিষয়টি নজরে রাখার আহ্বান মানবাধিকার অধ্যাদেশ নিয়ে সংসদে ভুল তথ্য উপস্থাপনা বাজেটে মোবাইল শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে: তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা

‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু — কে পাবেন, কীভাবে নিবন্ধন করবেন

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ (মঙ্গলবার, পহেলা বৈশাখ) টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ল্যাপটপের সুইচ চাপা দিয়ে দেশের বিস্তীর্ণ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি সশরীরে উপস্থিত থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ বলেই ডিজিটাল পোর্টালে যুক্ত হন এবং একই সময়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৮টি বিভাগে আরও ১০টি উপজেলার ১১টি ব্লকে প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। উদ্বোধনকালে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি কৃষকের ডিজিটাল প্রোফাইল সংবলিত এই কার্যক্রমের সূচনা করা হয়েছে।

কার্ডটির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য

সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এই ‘কৃষক কার্ড’ শুধু পরিচয়পত্র নয় — এটি কৃষকদের জন্য একটি স্থায়ী সুরক্ষা বলয় ও আর্থিক সেবা ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো কৃষির অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমিয়ে সরাসরি সুবিধা কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কার্ডটির আওতায় শুধু শস্যচাষী নয়, মৎস্যজীবী, গবাদিপশু ও দুগ্ধখামারি এবং উপকূলীয় অঞ্চলের লবণচাষীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

বাস্তবায়নের ধাপ ও বাজেট

কর্মসূচিটি তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে:

১) প্রাক-পাইলটিং (পরীক্ষামূলক) — আজ থেকে শুরু, প্রায় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ।

২) পাইলটিং — আগস্টের মধ্যে দেশের ১৫টি উপজেলার মধ্যে কার্যক্রম চালানো হবে।

৩) দেশব্যাপী কার্যক্রম — পাইলটিংয়ের ফলাফল অনুযায়ী আগামী চার বছরের মধ্যে সমগ্র দেশে কার্ড বিতরণ ও তথ্যভান্ডার তৈরি সম্পন্ন করার লক্ষ্য।

প্রাক-পাইলটিংয়ের বিস্তার ও পরিসংখ্যান

প্রাক-পাইলটিংয়ে ১০টি জেলা, ১১টি উপজেলা ও ১১টি ব্লকে ফসল উৎপাদনকারী কৃষক ছাড়াও মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি, দুধখামারি ও লবণচাষী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত মোট 22,065 জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে; এর মধ্যে ভূমিহীন 2,246 জন, প্রান্তিক 9,458 জন, ক্ষুদ্র 8,967 জন, মাঝারি 1,303 জন এবং বড় 91 জন। মোট নিবন্ধিত 20,671 জন কৃষক বার্ষিকভাবে সরাসরি 2,500 টাকা নগদ বা উপকরণ ভর্তুকি পাবেন।

কেন্দ্রীভূত ব্যাংকিং ব্যবস্থা

এই কার্ডটি একটি ব্যাংক-ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় কৃষকদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কার্ড সেই হিসাবের সাথে যুক্ত থাকবে। কার্ডধারীরা তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে সরকারি টাকা পেতে পারবেন এবং নির্দিষ্ট ডিলারের কাছে POS ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার-ভর্তুকিকৃত সার, বীজ ও প্রাণিক খাদ্য ক্রয় করতে পারবেন।

কার্ডধারীদের প্রধান সুবিধা

এই স্মার্ট কার্ডধারীরা নিম্নোক্ত প্রধান সুবিধাগুলো পাবেন:

১. ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ এবং সরঞ্জাম।

২. ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা।

৩. সহজ শর্তে কৃষি ঋণ ও অগ্রাধিকারাধীন সেবা।

৪. স্বল্পমূল্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি।

৫. সরকারি ভর্তুকি ও অনুদান সরাসরি প্রাপ্তি।

৬. মোবাইলের মাধ্যমে আবহাওয়া পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য।

৭. কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা।

৮. ফসলের রোগ-বালাই শনাক্তকরণ ও প্রতিকার পরামর্শ।

৯. কৃষি বিমা সুবিধা — প্রাকৃতিক দুর্যোগে আর্থিক সুরক্ষা।

১০. ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা।

নিবন্ধন ও কার্ড গ্রহণের প্রক্রিয়া

সরকার জানিয়েছে, স্মার্ট কৃষক কার্ড পেতে নিম্নলিখিত কাগজপত্র দরকার হবে: ১) এনআইডির কপি, ২) এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি, ৩) নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর, ৪) জমির দলিল বা ভাগে চাষিদের ক্ষেত্রে ভিন্ন প্রমাণপত্র, এবং ৫) ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট নম্বর।

কর্মপ্রবাহটি হলো:

১) স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার (SAAO) সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রাথমিক তালিকায় নাম যুক্ত করা।

২) সরকার যখন আপনার এলাকায় পাইলট বা মূল প্রকল্প চালু করবে, তখন একটি রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করতে হবে; অনেক ক্ষেত্রেই এটি অনলাইনেও করা যাবে।

৩) জমা দেওয়া তথ্যগুলি উপজেলা কৃষি অফিস দ্বারা সরেজমিনে যাচাই করা হবে।

৪) যাচাই-প্রক্রিয়ার পরে এনআইডি ও মোবাইল নম্বর ভিত্তিক একটি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করা হবে।

৫) উপযুক্ততা নিশ্চিত হলে উপজেলা পর্যায়ে কার্ড বিতরণ সম্পন্ন করা হবে।

সতর্কবার্তা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো কৃষককে তার ঘামের ন্যায্যমূল্য দেওয়া।’ সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে কার্ডটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়া হবে এবং কার্ড পানোর জন্য কোনো অর্থ লেনদেনে জড়াবেন না—কোনো ধরণের কমিশন বা ফি দাবি করা হলে সেটি প্রতিহত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শেষ কথা

এই কার্ড বাস্তবায়নে সরকারি লক্ষ্য হচ্ছে কৃষকের আয় ও নিরাপত্তা বাড়ানো, বাজার-প্রবেশে স্বচ্ছতা আনা এবং সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। আগামি কয়েক মাসে পাইলট পর্যায়ে সংগ্রহকৃত অভিজ্ঞতার আলোকে দেশের বাকি এলাকায় দ্রুত এর বিস্তার করা হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo