1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
সংবিধানকে সংস্কার বলা যাবে না, শুধুই সংশোধন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক বিভ্রাটে সংসদ অধিবেশন ৪০ মিনিটের জন্য স্থগিত সাউন্ড সমস্যায় সংসদ অধিবেশন ৪০ মিনিট মুলতবি হতদরিদ্রদের জন্য চাল ১৫ টাকা প্রতি কেজি দরে দেওয়া হবে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী সুজন হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের ও কামালসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অর্থমন্ত্রীর সতর্কবার্তা: বৈশ্বিক সংকট বাড়ছে, পণ্যমূল্য ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে পারে ৩ মে থেকে সারাদেশে শুরু হবে হামের টিকাদান অভিযান মঙ্গল-আনন্দের পরিবর্তে এবারের নববর্ষে শোভাযাত্রা ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ হবে পাঁচ দিনের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত শিলাবৃষ্টি হতে পারে স্বাস্থ্য সচিবের নিশ্চয়তা: এখনো টিকার সংকট নেই

চব্বিশের অর্জন রক্ষা না হলে ২০২৬-২০২৭ সালে পুনরায় অভ্যুত্থানের আশঙ্কা—আসিফ

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন ও চেতনাকে রক্ষা করা না হলে ২০২৬ কিংবা ২০২৭ সালে একই ধরনের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তিনি ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষা করা হয়নি—এর ফলেই ১৯৭১ সালের ঘটনার পথ তৈরি হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজিত হয়েছে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে—বিশেষ করে গণভোটের ফল উপেক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জরুরি অধ্যাদেশ বাতিল এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে।

আসিফ বলেন, বিএনপি বারবার সংবিধান কথা বললেও প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধানই ভঙ্গ করছে। সংবিধানে স্থানীয় সরকার সংস্থায় জনপ্রতিনিধি নিয়োগে ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের থাকার কথা স্পষ্টভাবে বলা আছে; কিন্তু যে অধ্যাদেশগুলো আগেই জারি ছিল সেগুলো বজায় রেখে নির্বাহী প্রশাসনের হাতে এমন ক্ষমতা রেখে দেওয়া হচ্ছে যে, কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধিকে anytime অপসারণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিকে ভয় দেখিয়ে অনুগত ‘প্রশাসক’ বানিয়ে রাখার সুযোগ তৈরী হচ্ছে—যা স্পষ্টতই সংবিধান লঙ্ঘন।

তিনি ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ উত্থাপন করেন। বলেন, আওয়ামী শাসনের সময় প্রায় ১৮-১৯টি সংস্থার কাছে ব্যক্তিগত ফোনে নজরদারি চালানোর ক্ষমতা ছিল এবং তাদের ওপর কোনো কার্যকর আইনগত বাধ্যবাধকতা ছিল না। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার সে ক্ষমতা সীমিত করে মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছিল এবং আদালতের অনুমতিকে বাধ্যতামূলক করেছিল। বর্তমান সরকার সেই সংস্কারধর্মী অধ্যাদেশটি বাতিল করে আবারও ১৮-১৯টি এজেন্সির হাতে অপ্রতিবদ্ধ নজরদারি ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে—এটি জনগণের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জন্য বিপজ্জনক, বলেছেন তিনি।

মুখপাত্র আরও বলেন, অতীতেই আমরা ফ্যাসিবাদের ছাপ দেখেছি, আর এখন সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারের লক্ষণ পরিষ্কার হয়ে উঠছে। যদি বর্তমান সরকার গণভোটের রায় মেনে না নেয়, উত্তর থেকেই তারা ‘অবৈধ সরকার’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে, সতর্ক করে বলেন আসিফ। তিনি আরও জানায়, যেভাবে সরকার আমাদের অর্জনগুলো ধূলিসাৎ করতে সময় নিচ্ছে না, আমরাও তাদের অবৈধ ঘোষণায় দেরি করব না।

আসিফ দাবি করেন, শুরু থেকেই এনসিপি এই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছে, কিন্তু সরকারের সদিচ্ছার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সব অংশীজনকে নিয়ে আলোচনা־সমাধান করতে চান তারা; তবে গণভোটকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া নাটকীয়তার কারণে বাধ্য হয়ে সড়কে নামার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাজপথে নামা কারোর জন্যই মঙ্গলজনক হবে না, কিন্তু বিকল্পও আর নেই।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo