বিএনপি বিরোধী নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি বলেন, দেশের সাম্প্রতিক সংস্কার উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে আরো কঠোর আন্দোলন ও সচেতনতা জরুরি। তিনি দৃঢ়ভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তিনি রাজপথে নেমে এই আন্দোলনে অংশ নেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া কিছু সংস্কার প্রকৃতপক্ষে জনগণের স্বার্থে ছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়নে তারা সফল হননি। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে, যা পুনরুদ্ধার করতে হলে নেতৃত্বের অঙ্গীকার ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
শনিবার দুপুরে হজের ওমরাহ শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নাহিদ বলেন, দেশের সংস্কার প্রক্রিয়া এখন যেখানে দাঁড়িয়েছে, সেখানে সংসদে সমাধান না পাওয়ায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি এখন ক্ষমতা দখলের জন্য পুরোনো ধ্যানধারণা থেকে সরে এসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর না করে এলে দেশের সার্বিক অস্থিরতা আরও বাড়বে। বিশেষ করে মানবাধিকার ও বিচার ব্যবস্থা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ এভাবে চলতে থাকলে স্বৈরশাসন আর ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বৃদ্ধি পাবে।
নাহিদ বলেন, “বিএনপি এখন সংস্কারবিরোধী দল হিসেবে পরিচিত। তারা গত ১৬ বছর বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিপীড়িত হয়েছে, কিন্তু জনগণের মধ্যে তাদের আস্থা কমে গেছে। তারা সত্যিকার অর্থে দেশের পরিবর্তন চায় না, বরং নিজের স্বার্থে রাজনীতি চালাচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি এই পরিস্থিতিতে, যদি জনগণের আস্থা সরকারের উপর থেকে না যায়, তবে বিএনপি সরকারের পরিচালনা কার্যকর হবে না। এজন্য তিনি সকল অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানান, এই অধ্যাদেশগুলো বাতিলের বিষয়ে দৃঢ়ভাবে সোচ্চার হবেন। “অ্যাডভাইজার ড. ইউনূস ও অন্যান্য উপদেষ্টাদের দায়িত্ব হলো মানসিকতা বদলানো, লুকানো ষড়যন্ত্র থেকে সরে এসে জনগণের কথা শুনা। তাদের উচিত হলো নিজেদের স্বার্থের জন্য নয়, দেশের স্বার্থে কথা বলা।”
তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ওমরাহ পালন শেষে তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন। দেশে ফিরে তিনি দলীয় নেতাকর্মী, যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে উষ্ণ স্বাগত গ্রহণ করেন। তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ও দেশের স্বার্থে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। সূত্র মতে, তিনি তার এই উদ্যোগের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথে আগামীর সংকটে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।