পবিত্র রমজান মাসের শেষের দিকে এসে চলছে ঈদের প্রস্তুতি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ঈদুল ফিতর; তাই নাড়ির টানে মানুষ বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করছেন। রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, কেবল রাজধানী ঢাকা থেকেই সোয়া কোটিরও বেশি মানুষ নিজ ঠিকানায় ফিরে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে, যার চাপ সামাল দিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।
আজ শুক্রবার ঈদের প্রথম দিন ট্রেন চলাচল পর্যবেক্ষণের জন্য কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলসেবায় অতিরিক্ত কোচ ও বিশেষ ট্রেন যুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আনুমানিক ১২৪টি অতিরিক্ত কোচ যোগ করা হয়েছে; মিটারগেজে আরও প্রায় ১৪টি কোচ ও ব্রডগেজ লাইনে প্রায় পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থায় প্রতিদিন প্রায় ৩৬ থেকে ৪২ হাজার যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি বিচার করেন।
মন্ত্রী জানান, ঈদ উপলক্ষে সরকার এবার সাত দিনের টানা সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে, যা শুরু হবে ১৭ মার্চ মঙ্গলবার থেকে। তবে রেলসেবা অনুযায়ী ঈদযাত্রা আজ ১৩ মার্চ থেকে কার্যত শুরু হয়ে গিয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ গত ৩ মার্চ থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করে এবং পর্যায়ক্রমে ২০ মার্চ পর্যন্ত অগ্রিম টিকিট বিক্রয় চালু রাখা হয়েছে।
রেলমন্ত্রী বলেন, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে প্রতিদিন ৩৬ হাজার টিকিট অনলাইনে শতভাগ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে; কিন্তু ওই ৩৬ হাজার টিকিটের জন্য অনলাইনে প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ টিকিট কেনার চেষ্টা করেছেন। তিনি বললেন, প্রচণ্ড অনলাইন চাপের কারণে অনেক সময় টিকিট বুকিংয়ে পেমেন্ট শেষ না হওয়ার কারণে লোকেরা টিকিট না পেয়ে ফিরে যান। এক টিকিট বুক করার পর পেমেন্ট সম্পন্ন করার জন্য যাত্রীকে সাধারণত ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট সময় দেয়া হয়, এ কারণে মাঝে মাঝে টিকিট অন্যের কাছে চলে যায়। সত্ত্বেও, রেলের দফতরের মতে, যারা টিকিট কিনতে চেয়েছেন তারা ন্যায্যভাবে টিকিট পেয়েছেন।
ঈদযাত্রার শেষ মুহূর্তে কিছু ব্যক্তি ছাদে উঠে ভ্রমণের চেষ্টা করেন—এটি নিরাপত্তাহীনতার বড় কারণ। মন্ত্রী জানান, এমন অনভিপ্রেত পরিস্থিতি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবু অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে কখনো দুই-একজন যাত্রী ছাদে উঠে যেতে পারেন; শতভাগ রোধ করা কঠিন হলেও রেলমন্ত্রী দাবি করেন যে রেল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যেন কেউ ছাদে উঠতে না পারে।
রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম অভিযান পরিচালনা ও ভ্রমণকারীদের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যাত্রা নিশ্চিতে সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। যাত্রীদেরও তিনি জরুরি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানান—ট্রেন চলাচলের সময় নির্দেশনা অনুসরণ, ভিড় এড়ানো এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার প্রতি সচেতন থাকা যথা প্রয়োজন।