আফগান কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজধানী কাবুলসহ সীমান্তবর্তী কয়েকটি প্রদেশে পাকিস্তান রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় কাবুলে অন্তত চারজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলায় শহরের কয়েকটি আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন বলে কাবুল পুলিশ মুখপাত্র খলিল জাদরান নিশ্চিত করেছেন।
পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, তারা মূলত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এসব অভিযান চালিয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের দেশের ওপর বাড়তি জঙ্গি হামলার জেরে ইসলামাবাদ গত মাস থেকেই আফগানিস্তানের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় বিমান হামলা জোরদার করেছে।
তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে; তারা বলছে যে আফগান ভূখণ্ড থেকে কোনো জঙ্গি তৎপরতা পরিচালিত হয় না। তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, কাবুল ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের কান্দাহার ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী পাকতিয়া ও পাকতিকা প্রদেশেও পাকিস্তানের হামলার খবর পাওয়া গেছে।
কান্দাহারে বিমানবন্দরের কাছে বেসরকারি বিমান সংস্থা কাম এয়ারের এক জ্বালানি ডিপোতেও হামলার সংবাদ পাওয়া গেছে। ওই ডিপো থেকে বেসামরিক এবং জাতিসংঘের উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। পাকিস্তান দাবি করেছে, ওই অভিযানে কোনো বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়নি। তবে দুই পক্ষের দেওয়া হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
সীমান্তপেরিয়ে বিমান হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি তীব্রভাবে উত্তপ্ত থাকায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে; আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বেসামরিক নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সুস্পষ্ট এবং স্বচ্ছ তল্লাশি ও তদন্তের আহ্বান জানানো হচ্ছে।