কেন্ড্রীয় ব্যাংক খেলাপি ঋণের বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তফসিলি ব্যাংকগুলোকে দক্ষ মধ্যস্থতাকারী (মেডিয়েটর) নিয়োগের নির্দেশনা জারি করেছে। বুধবার প্রকাশিত সার্কুলারে বলা হয়েছে, আদালতে মামলা করার আগে ‘প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা’ পদ্ধতিতে বিরোধ সমাধান করলে মামলার জট কমবে এবং দ্রুত আর্থিক পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।
নতুন নীতির মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) প্রক্রিয়ার আওতায় ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ আদায় করে নিবিড় ফলাফল দেখাতে বলা হয়েছে। সময়সীমা নির্ধারণের এ উদ্যোগকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক(bank) খাতের তারল্য ও আর্থিক স্থিতি উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বর্তমান অনাদায়ীকৃত ঋণের পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনকে জাতীয় পর্যায়ে ঋণ পুনরুদ্ধারের কার্যক্রমে সহায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সার্কুলারটি ২০২৪ সালের ২২ মে জারি করা বিএরপিডি সার্কুলার নং-১১-এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করে but নতুন নির্দেশনায় আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। এছাড়া অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ ও দেউলিয়া আইন, ১৯৯৭-এর আওতায় যেতে পারে এমন মামলাগুলোরও আদালতে যাওয়ার আগেই সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে যে, মধ্যস্থতাকারীদের পছন্দ করতে হবে বিদ্যমান আইন অনুসারে গঠিত বিশেষায়িত মধ্যস্থতা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্যানেল থেকে। ঐ প্যানেলে সাধারণত অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা আর্ভুক্ত থাকবেন।
সার্কুলারে মধ্যস্থতাকারী নির্বাচনের জন্য দশটি যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যানেল সদস্যপদ যাচাই, মধ্যস্থতাকারীর নিরপেক্ষতা, পেশাগত সুনাম, বিশেষজ্ঞ দক্ষতা, মধ্যস্থতা সংক্রান্ত জ্ঞান, প্রমাণিত অভিজ্ঞতা, পরিষ্কার আইনি রেকর্ড, আর্থিক সততা, খেলাপি ঋণের গ্রাহক না হওয়া এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে কঠোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে; নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হলফনামা ও অঙ্গীকারপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি এই মধ্যস্থতা সুবিধা সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতন করতে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, আদালতের বাইরে দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করে দীর্ঘস্থায়ী আইনি প্রক্রিয়ার বিকল্প হিসেবে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এ থেকে ব্যাংক খাতের ঋণ পুনরুদ্ধার বাড়বে, আর্থিক সুশাসন শক্তিশালী হবে এবং মামলার ব্যস্ততা কমে বিচারপ্রণালীও আরও ফলপ্রসূ হবে।