সাতক্ষীরায় পুরাতন শহর এলাকায় একাধিক মন্দিরে দুর্জনদের দুঃসাহসিক চুরি ঘটেছে। বুধবার (১১ মার্চ) ভোরের দিকে প্রায় পাঁচটি মন্দিরের তালা ভেঙে নগদ টাকা ও দেবীপূজায় রাখা স্বর্ণ-রূপা সহ আনুমানিক ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে অজ্ঞাত চোরেরা।
জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন জানান, রাতে মন্দির এলাকায় ওঠা-নামা করা কিছু ছাত্র ভোর সাড়ে তিন থেকে চারটার দিকে চুরির ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারে এবং খবর দেন। মন্দির কমিটিনিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখেন কালী মন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, জগন্নাথ মন্দির, চৈতন্যদেব মন্দির ও রাধা-গোবিন্দ মন্দির—all মন্দিরের দরজার তালা কেটে ভেতরটি তছনছ করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, চোরেরা প্রায় সাত ভরি ওজনের কয়েকটি স্বর্ণদাগী গয়না, বিভিন্ন ওজনের রূপার গয়না, নগদ টাকাসহ মন্দিরের প্রতিমা ও উপস্থাপনার জন্য রাখা মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে গেছে। চুরির তালিকায় কালীমাতার স্বর্ণের জিহবা, দুটি স্বর্ণের বালা, দুটি জোড়া পেটি, দুই জোড়া শাখা, একটি স্বর্ণের চেইন, একটি নথ টানা এবং অন্যান্য রূপার গহনা রয়েছে। মন্দির সমিতি বদরাই এটি আনুমানিক মূল্যায়ন করেছেন প্রায় ২০ লাখ টাকা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ একটি তালা কাটার মেশিন উদ্ধার করেছে। সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্ত চলছে।
মন্দির সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য দীপা সিন্দু তরফদার বলেন, দুই দিন আগে শহরের কাটিয়া কর্মকারপাড়া এরাকা এলাকায় ও একটি মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। বারবার ঘটে যাওয়া এসব চুরির ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তিনি দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার, চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার ও মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।
পুলিশের দাবি, ঘটনার সঠিক পরিধি ও দায়ীদের শনাক্ত করে দ্রুত তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং খোঁজখবর করে মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।