কনটেন্ট নির্মাতা আশরাফুল আলম, যিনি হিরো আলম নামে পরিচিত, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেন। পুলিশ বুধবার ১৯ ফেব্রুয়ারি বগুড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক আনোয়ারুল হক তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
বুধবার দুপুরে হিরো আলমের ফোনে কল করলে সেটি রিসিভ করেন পরিচালক রবিন খান। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, বগুড়ার বনানী এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। অন্য এক সূত্র জানায়, হিরো আলম নিজ এলাকার স্থানে থাকাকালে খবর পেয়ে পুলিশ তার খোঁজা শুরু করে। তিনি ঢাকায় পালানোর চেষ্টা করলে গাড়ি করে ধাওয়া করে তাকে শাজাহানপুর থানার কাছাকাছি এলাকায় ধরে ফেলা হয়। এরপর তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৬ মে এক নারী বাদী হয়ে বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় বাদী তার জবানবন্দি দেন এবং তদন্তের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পিবিআই ১০ ফেব্রুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় অন্যান্য অভিযোগে জড়িত পাঁচজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে জানানো হয়, হিরো আলম বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে ওই নারীর প্রতি বারবার ধর্ষণ করেন। এরপর তিনি এক মৌলভীর মাধ্যমে নিজের বিয়ে সেরেছেন বলে বলতেন। পাশাপাশি একাধিক বাসা ভাড়া করে সেখানে দীর্ঘদিন অবস্থান করেন। যখন ওই নারী গর্ভবতী হন, তখন ২০২২ সালের ১৮ এপ্রিল তার গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন। রাজি না হওয়ায় ২১ এপ্রিল হিরো আলম ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর করে। গুরুতর রক্তক্ষরণে তিনি শহরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি হন এবং তার গর্ভপাত হয়। এরপর তিনি ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এছাড়া, সিনেমা নির্মাণের নামে হিরো আলম ওই নারীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ধার নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।