1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
আসুন সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি: বিএনপি চেয়ারম্যান প্রত্যাশিত দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী আসুন সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি — বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীসহ মুসলমানদের ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান দেশের মানুষ ও বিশ্ব মুসলিমদের পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা ঈদুল ফিতরে পদ্মা-যমুনা সেতুতে রেকর্ড যানবাহন পারাপার ও টোল আদায় ঈদযাত্রায় ৩ দিনে পদ্মা সেতুতে ১৩ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ টাকার টোল আদায় নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়বেন প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা: জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে নামাজ পড়বেন

ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বিপজ্জনক হতে পারে চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬

২০২৬ সালের প্রথম দুই সপ্তাহেই চীনের সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান বিশ্ব মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে। ২০২৫ সালে চীনের বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়—এটি বিশ্ব ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। তথ্য প্রকাশের পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক এ ফলাফলকে নতুন উদ্বেগ হিসেবে দেখছেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ঈশ্বর প্রসাদ মন্তব্য করেছেন, মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য চীনের এই বিশাল উদ্বৃত্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি হতে পারে। তাঁর যুক্তি—চীনের সস্তা পণ্য কেবল উন্নত দেশগুলোর শিল্পকে নয়, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকেও প্রতিযোগিতায় দুর্বল করে দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে রপ্তানিভিত্তিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করলে আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’-এর সাবেক প্রধান সম্পাদক হু সিজিন ১৬ জানুয়ারি উইবোতে লিখেছেন, এই উদ্বৃত্ত ওয়াশিংটনের অভিজাত শ্রেণিকে আতঙ্কিত করেছে। তাঁর ভাষ্যে, ‘‘চীনের অর্থনীতি অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক; কোনো বাণিজ্য যুদ্ধ দিয়েই একে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।’’ হু আরও যোগ করেন, চীনের রপ্তানি জোরালো হওয়ার পেছনে জোর-জবরদস্তি নয়, বরং পণ্য উৎপাদনে সততা ও পরিশ্রম আছে।

বাণিজ্য উদ্বৃত্তের গঠন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এটি একপাশে শক্তিশালী রপ্তানি ও অন্যপাশে দুর্বল আমদানি—এই অনুপাত থেকেই এসেছে। ২০২৫ সালে চীন-মার্কিন শুল্ক যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি ২০ শতাংশ কমলেও আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, আসিয়ান ও ইইউ-তে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে; আফ্রিকায় তা রেকর্ড ২৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী পণ্যের চাহিদা, চীনের উৎপাদনখাতে মুদ্রাসঙ্কোচন ও ইউয়ানের মূল্যহ্রাস মিশে চীনা পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও সাশ্রয়ী করে তুলেছে।

তবে আমদানির দিকটি পুরোটা সঙ্গে নেই। ২০২৫ সালে চীনের মোট আমদানি মাত্র ০.৫ শতাংশ বাড়ে—অর্থাৎ রপ্তানির ৬.১ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে তুলনীয় নয়। অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার স্থবিরতা প্রধান কারণ। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ভোক্তাসামগ্রীর খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে কমে—নভেম্বরে তা তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ১.৩ শতাংশে নেমে আসে। একই সময় আবাসন খাতে সংকটের ফলে স্থাবর সম্পদে বিনিয়োগও সংকুচিত হয়েছে; এমনকি ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বার্ষিক বিনিয়োগে পতনের আশঙ্কাও করা হচ্ছে। ফল হিসেবে আমদানির গতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

গত বছর সাত মাসে চীনের মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল; তুলনামূলকভাবে ২০২৪ সালে এটা মাত্র একবার ঘটেছিল—এটিই নির্দেশ করে যে এই ভারসাম্যহীনতা আকস্মিক নয়, বরং ধারাবাহিক। বিশ্বপেক্ষায় এই বিশাল রপ্তানিটা একদিকে অর্থনৈতিক শক্তি ও বিশ্বব্যবস্থায় সরবরাহশৃঙ্খলের পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখছে; এটি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছে এবং উন্নত দেশগুলোর স্তরে মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়েছে। অন্যদিকে, অত্যধিক রপ্তানিনির্ভরতা চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতাকে তীব্র করতে পারে—আভ্যন্তরীণ চাহিদি দুর্বল থাকলে দেশের অর্থনীতি বহুদূরপ্রসারি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এছাড়া বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়লে প্রতিরোধমূলক কৌশল, শুল্ক বা অন্যান্য বাধা আরোপের ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও এসেছে। ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেছেন—চীন যদি রপ্তানিমুখী মডেলের ওপর অনড় থাকে, তা বিশ্ব বাণিজ্যে উত্তেজনা বাড়াবে। ফরাসি রাষ্ট্রপ্রধান ইমানুয়েল মাখোঁ ইস্যুতে সতর্ক করে বলেছেন, বেইজিং যদি ইউরোপের সঙ্গে এই ভারসাম্যহীনতা সমাধান না করে, তাহলে ইইউ অতিরিক্ত শুল্কসহ কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

এদিকে বেইজিং আনয়াসহ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও দেখা যায়। চলতি মাসের শুরুতে গুয়াংডং পরিদর্শনে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং বলেন, দেশে আমদানি বাড়ানো এবং আমদানি-রপ্তানির মধ্যে আরও সুষমতা বজায় রাখা প্রয়োজন। বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও জানিয়েছেন, বিশেষ টার্গেট ক্রয়, সমন্বিত বাণিজ্য মেলা ইত্যাদির মাধ্যমে আমদানি বাড়াতে সরকার কাজ করবে। সরকার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ফটোভোলটাইক পণ্যের ওপর রপ্তানি ভ্যাট রিবেট বাতিল করা হবে; ব্যাটারি পণ্যে রিবেট ধাপে ধাপে কমিয়ে ভবিষ্যতে বন্ধ করা হবে। এছাড়া এই মাসে চীন ও ইইউ’র মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি সম্পর্কিত একটি সমঝোতা হয়নি—চীনা গাড়ি নির্মাতারা অ্যান্টি-সাবসিডি শুল্কের বদলে ন্যূনতম মূল্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যবসা চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।

চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কি আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ—এর উত্তর নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর: রপ্তানি থেকে অর্জিত আয় দেশীয় চাহিদি ও বিনিয়োগে ফিরছে কি না, রপ্তানি বৃদ্ধিই আমদানিকে ত্বরান্বিত করছে কি না, এবং বাণিজ্যিক নীতিতে কীভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে। হু সিজিনের মতো অনেকে বলেছেন—এটি চীনের শক্তির প্রমাণ; অন্যদিকে ঈশ্বর প্রসাদের মতো অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন—এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।

চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সম্ভাব্য সুবিধা আর ঝুঁকি—দুইটাই বহন করছে। এখন প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট নীতিগত আবেদন ও আন্তঃদেশীয় সমঝোতা, যাতে এই উদ্বৃত্ত বিশ্ব ও চীনের জন্য স্থিতিশীল ও সহায়ক ফল করে। সূত্র: বিজনেস টাইমস।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo