1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
নাসির ও তামিমার মামলার রায় ঘোষণার দিন—১০ জুন চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সব সেনা প্রত্যাহার, ব্যারাকেই ফিরবে সদস্যরা নাসির-তামিমা মামলার রায় ঘোষণা ১০ জুন সরকারি বিভাগের ধীরগতি বিনিয়োগে প্রধান প্রতিবন্ধকতা: মির্জা ফখরুল মদনে শিশুধর্ষণ ও ন্যূনতম অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগ: শিক্ষকে গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার গরুর হাটে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তা এপ্রিল মাসে সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু সেনাপ্রধানের মতে, দেশের ইতিহাসে এত সুন্দর নির্বাচন আগে হয়নি এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে

মেসির ভারতের সফর এবং কলকাতা অনুষ্ঠানের বিবরণ প্রকাশ

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

১৩ ডিসেম্বর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির এক অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার পেছনের কারণ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্ত। বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-এর জেরায় তিনি জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের সময় অতিরিক্ত ভিড় ও অবাঞ্ছিত স্পর্শে তিনি খুবই বিরক্ত হয়েছিলেন এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ত্যাগ করেন বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবল কিংবদন্তী।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে শতদ্রু দত্ত বলেন, “মেসি পিঠে হাত দেওয়া বা জড়িয়ে ধরা পুরোপুরি অপছন্দ করেন।” তিনি আরো জানান, অনুষ্ঠান শুরুর আগেই বিদেশি নিরাপত্তাকর্মীরা আয়োজকদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

দত্তের ভাষ্য অনুযায়ী, দর্শকদের সংযত ও শান্ত থাকার জন্য মাইকিং করা হলেও কোনো প্রভাব পড়েনি। তিনি বলেন, “যেভাবে মেসিকে ঘিরে ধরা হয়েছিল, সেটি তার জন্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ছিল।” পরিস্থিতি এতটাই বিঘ্নিত হয় যে, মেসি নিজেও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।

অনুষ্ঠানের সময়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে মেসির কাছাকাছি দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি বলছে, ছবি তোলার সময় অরূপ বিশ্বাস মেসির কোমরে হাতে রাখেন। এই ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি, পরে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ মাঠের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পায়, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দত্তের দাবি, প্রথমে মাত্র ১৫০টি গ্রাউন্ড পাস ইস্যু করা হয়েছিল। কিন্তু একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপে সেই সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি পায়। তিনি অভিযোগ করেন, এর ফলে পুরো অনুষ্ঠান পরিকল্পনাবহির্ভূত হয়ে যায় এবং নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ে।

দত্ত আরও দাবি করেছেন, প্রভাবশালী ব্যক্তির মাঠে পৌঁছানোর পর পুরো পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে অব্যবস্থাপনায় পড়ে যায়, ফলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশ এখন যাচাই করছে, পাসের সংখ্যাবর্ধনের জন্য মূল কারণ কি ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা।

সাক্ষাতকারে দত্ত আরও জানান, মেসির ভারত সফরের জন্য তাকে মোট ৮৯ কোটির টাকাপয়সা দেয়া হয়। এর পাশাপাশি ভারত সরকার কর হিসেবে ১১ কোটি টাকা levied করে। সব মিলিয়ে এই সফরে ব্যয় ধরা হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা, যার প্রায় ৩০ শতাংশ আসে স্পনসরদের কাছ থেকে, এবং বাকি ৩০ শতাংশ আসে টিকিট বিক্রির থেকে।

এসআইটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দত্তের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ কোটির বেশি টাকা জব্দ হয়েছে। শুক্রবার তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রসহ বেশ কিছু আর্থিক তথ্যও সংগ্রহ করা হয়। দত্তের দাবি, তার অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ এসেছে টিকিট বিক্রি, স্পনসরদের কাছ থেকে পাওয়া টাকা এবং আয়োজকৃত মেসি ইভেন্টের অন্যান্য সামগ্রী থেকে। তবে তদন্তকারীরা এই দাবি যাচাইয়ে কাজ করছেন।

উল্লেখ্য, সল্টলেক স্টেডিয়ামের ওই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার দর্শক উচ্চমূল্যের টিকিট কিনেছিলেন। তবে, দর্শকদের বিশৃঙ্খলার কারণে মাঠের ভেতর থেকে মেসিকে পরিষ্কারভাবে দেখা যায়নি, যার ফলে অনেক দর্শক মনে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে কিছু অংশ স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালায়।

এই ঘটনার তদন্তে রাজ্য সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে, যেখানে রয়েছেন পীযূষ পাণ্ডে, জাভেদ শামিম, সুপ্রতিম সরকার ও মুরলিধর। ভাঙচুরের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যর্থতা, অনুমতি লঙ্ঘন ও আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা—সব বিষয়ই এখন এই দলের তদন্তের আওতায়।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo