বলিউড সুপারস্টার সালমান খান দীর্ঘ একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ভারতের চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেন, শুরুতে বিক্ষোভগুলো শান্তিপূর্ণ ছিল; পরে কিছু জায়গায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আহত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
সালমান পোস্টে শিক্ষার্থীদের ঐক্য ও নিঃশব্দ সাহসের প্রশংসা করে বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর ইস্যুতে এই ধরনের চেষ্টা সাহসিকতার পরিচায়ক। তিনি অভিভাবকদেরও কৃতজ্ঞতা জানান যারা সন্তানদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তার মতে, এই বিতর্ক মূলত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যকার সমস্যা; তাই এটি রাজনীতি করা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়েছেন যে আন্দোলনের কৃতিত্ব মূলত শিক্ষার্থীরাই পাওয়ার যোগ্য। পাশাপাশি সালমান আশা প্রকাশ করেছেন যে সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে, যাতে শিক্ষা মান্যতা ও মর্যাদা ফিরে পায় এবং ভারতকে বৈশ্বিক শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়।
পটভূমি: NEET-UG ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। স্থানীয় সংবাদে উল্লেখ আছে যে অনশনরত শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকে জোরপূর্বক হাসপাতালে নেয়া হয়েছে—এ বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
গত সোমবার দিল্লিতে এক বড় আন্দোলনকালে বিক্ষোভকারীরা সংসদের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটকাতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবাদ দমন করতে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে; বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পুলিশের ওই পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হয়েছে। বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীও ঘটনার নিন্দা করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সালমানের আহ্বান—বিক্ষোভকে শান্তিপূর্ণ রাখা, শিক্ষার্থীদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা এবং বিষয়টিকে রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত না করা—এই তিনটি বার্তাই রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পরবর্তী দিনগুলোতে সরকার ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কীভাবে সমাধান হয়, সেটাই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।