1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পিছিয়েছে আপিল বিভাগে পর্যাপ্ত বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতিকে শিশির মনিরের চিঠি ইসি: স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থীতা অযোগ্য করার সুপারিশ বিবাহের পাঁচ দিন পরও বায়োডাটায় ‘অবিবাহিত’—গাজী নজরুল-মরিয়মকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাকে আটক রাশেদ খাঁন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদায়) হিসেবে যোগদান বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদায়) হিসেবে যোগদান সাইবার বুলিংকে কঠোরভাবে দমন করবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

বিক্ষোভে কেঁপে উঠল দিল্লি; মোদির উপর চাপ তীব্র

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

নিউ দিল্লির জয়ন্ত কেন্দ্রে পরীক্ষাসংক্রান্ত কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাতে নতুন মাত্রা পেয়েছে—শিক্ষা সংস্কারের দাবিকে ছেড়ে এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে পদত্যাগের দাবি উঠছে।

অনলাইনভিত্তিক গ্রাসরুটস সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আর বিরোধী দলগুলোর সমর্থনে বুধবার যন্ত্র মন্তরের ওপর থেকে শুরু হওয়া সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়। আন্দোলনকারীরা দাবি তুলছেন—শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি, সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। সেই দাবির চাপ বাড়তেই এখন সরকারের সামগ্রিক নীতিনির্ধারণকেও প্রশ্নের মুখে নেয়া হচ্ছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপির বরাত হিসেবে দিল্লি থেকে জানা গেছে, যন্ত্র মন্তরে থাকা প্রতিবাদকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধরমেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে তারা সেখানে থেকে যাবে—এমন শিরোমুখী অবস্থান নিয়েছে। সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, আমরা সেই দেশে ফিরে যেতে চাই না যেখানে মানুষ প্রশ্ন করা ভুলে গিয়েছিল; যেখানে সরকারের সমালোচনাকে দেশদ্রোহিতা বলেই ধরা হতো।

আন্দোলনে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, বিশেষত গত কয়েকদিনে বিরোধী দলগুলোর প্রকাশ্য সমর্থন যোগে আন্দোলনটি আরও শক্তিশালী হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, পুলিশি দমননীতির জন্য সরকারকে ক্ষমা চাইতে হবে। পুলিশের হাতে তাকে আটক করে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে রাখা হয়; এরপর তিনি কালো পোশাক পরে পার্লামেন্টে গিয়ে সরকারের জবাবদিহি দাবি করেন।

সমাজবাদী দল থেকে অখিলেশ যাদব পর্যন্ত মঞ্চে আসেন এবং বলছেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ ও তাদের উদ্বেগের ওপর এই সরকারের নীরবতা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে; পরে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে বিক্ষোভটা উত্তপ্ত রূপ নেয় এবং কিছু অংশে পাথরও ছোড়া হয়। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো দিল্লি পুলিশের কড়া ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে মিলছে কি না তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।

আন্দোলনের পটভূমি হিসেবে বলা হয়, গত মে মাসে দেশটির প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত এক শুনানি চলাকালে তরুণদের ‘ককরোচ’ এবং ‘পরজীবী’ হিসেবে অভিহিত করেন—যার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ওই মন্তব্যের প্রতিবাদে অনলাইনভিত্তিক ককরোচ জনতা পার্টি গড়ে ওঠে এবং দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় লাখ লাখ সমর্থক সংগ্রহ করে। এরপর থেকে সংগঠনটি বেকারত্ব, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী ঢাঁচাসহ নানা বিষয়ে প্রতিবাদ করা শুরু করে।

এমতাবস্থায়, দেশের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস—যার ফলে প্রায় ২০ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন ভিত্তিক হাইস্কুল মূল্যায়নের বিরোধিতাও লোকে গ্রহণ করেনি; এগুলো মিলিয়ে তরুণ ও ছাত্রসমাজের মধ্যে ক্ষোভ জমে ওঠে।

শিক্ষামন্ত্রী ধরমেন্দ্র প্রধান চাপ সামলাতে গিয়ে সংসদে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিশ্রুতি দেন যে সরকার সংস্কার ও জবাবদিহিতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বিষয়টি পার্লামেন্টে আলোচনা করা হবে। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের তাদের কাছে জবাব, সংস্কার এবং জবাবদিহি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তারা বিশৃঙ্খলার চেয়ে নিশ্চয়তা, স্লোগানের চেয়ে সমাধান ও বিঘ্ন ঘটানোর চেয়ে দায়বদ্ধতা বেশি পেতে যোগ্য।’’

তবে এই প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও আন্দোলন থামেনি; যন্ত্র মন্তরে অনবরত অবস্থান কর্মসূচি চলেছে এবং সেখানে প্রতিবাদকারীরা প্রায় এক মাস ধরে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। ২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী কাব্য এএফপিকে বলেন, তিনি ভীত—কারণ সোমবার তিনি পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের মারধর ও বলপ্রয়োগ করতে দেখেছেন; তবু আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছাড়া তাদের আর উপায় নেই।

আন্দোলনের ঢেউ দিল্লির বাইরেও ছড়িয়েছে—মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, গোয়া সহ অন্যান্য বড় শহরেও হাজিরা বেড়েছে। সমগ্র পরিস্থিতি ২০২৪ সালে নরেন্দ্র মোদির পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর সরকারের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

(সূত্র: এএফপি)

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo