ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী শুক্রবার ইসরায়েলের সংসদ নেসেট ভেঙে দেওয়া হবে এবং ২৭ অক্টোবর সেখানে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদমাধ্যমটি মনে করিয়ে দিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের গোটা দেশের উপর চালানো হামলার পর এটি হবে প্রথমবারের মতো আয়োজিত জাতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তার জোট সরকারের জনপ্রিয়তা যাচাই হবে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সূত্রে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলেছে বলে প্রতিবেদন উল্লেখ করেছে।
গত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ দল একক দল হিসেবে সর্বোচ্চ আসন পেয়েছিল। কিন্তু নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় ক্ষমতায় থাকার জন্য তাকে অতি‑ডানপন্থী দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করতে হয়েছিল। সমালোচকরা বলছেন, এর ফলে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে উগ্রপন্থি সরকার গঠিত হয়েছে, যার নীতিগুলো ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও অধিকার সীমিত করার দিকে পরিচালিত করেছে।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, নেসেটের অধিবেশন শিগগিরই শেষ হওয়ার কারণে সংসদ ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এর আগে নেতানিয়াহুর জোট সরকার নির্বাচনের আগে কিছু বিতর্কিত আইন দ্রুত পাশ করানোর চেষ্টা করছে, যাতে তারা ভোটে সুবিধা পেতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের জמדিষ্ট এলাকায় নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের প্রবণতা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর সহিংসতা ও টানাপোড়েন আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন জরিপ অনুসারে, এই নির্বাচনে ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা উঁচু মনে করা হচ্ছে। তবে তার রাজনৈতিক জীবনেও আগে‑কয়েকবার জরিপকে পাল্টে ক্ষমতায় ফিরে আসার উদাহরণ আছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান