দেশের বাজারে তিন দিন আগের বাড়ানোর ঠিক পরেই আবার সমান পরিমাণে কমানো হলো স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্থানীয় তেজাবি (পাকা) স্বর্ণের দর কমে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে। সিদ্ধান্তটি নিয়েছে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি; পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নতুন মূল্য অনুযায়ী ২২ ক্যারেট (প্রতি ভরি ১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের গহনার দাম ২,২১৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ২,১০০ টাকা কমে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা করা হয়েছে।
অন্য ক্যারেটগুলোতে এ পরিবর্তন হয়েছে— ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১,৮০৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১,৪৫৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এতে থাকা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১০ জুলাই ভালো মানের (২২ ক্যারেট) এক ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ২,২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল; সেই বাড়তি পরিমাণ তিন দিনের মাথায় আবার কমানো হলো।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত স্বর্ণের বাজারে মোট ৯০ দফা সমন্বয় করা হয়েছে—এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৪৪ দফায়, কমানো হয়েছে ৪৫ দফায় এবং ১ দফায় ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। তুলনায় গত ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম বাজারে মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো ও ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল।
রুপার গহনার দামও ভ্যাটসহ সমন্বয় করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৪,৬০৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৪,৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১১৬ টাকা কমিয়ে ৩,৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপা ৫৮ টাকা কমিয়ে ২,৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রুপার দামের ক্ষেত্রে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৫৬ দফা সমন্বয় করা হয়েছে—এর মধ্যে ২৮ দফায় দাম বাড়ানো এবং ২৮ দফায় দাম কমানো হয়েছে। গত ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল; তাতে ১০ বার দাম বেড়েছিল, আর ৩ বার কমেছিল।
বাজুসের এই সমন্বয় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য বাজার পরিস্থিতি প্রতিফলিত করে বলে জানিয়েছে সংস্থা, এবং স্থানীয় দর অনুযায়ী ভবিষ্যতেও মূল্য সমন্বয় চলবে।