1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
সবাই বলেছিল আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে, তাই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী চট্টগ্রাম ব্যতীত সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা চলবে: প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ‘সবার আশ্বাস ছিল আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে, তাই পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়’: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী কাউকে আঘাত করতে চাইনি, বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দুই সন্তানের সামনেই স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্বামী ছায়েদুল গ্রেফতার: র‍্যাব জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জনের মৃত্যু, মোটরসাইকেলে নিহত ১৭৩ জয়পুরহাটে মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় প্রতিবেশী আলম মণ্ডলকে মৃত্যুদণ্ড সেনাবাহিনী স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক; জনগণের আস্থা গভীর: প্রধানমন্ত্রী ভাড়া বিরোধে লালবাগে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, দুইজন আটক প্রধানমন্ত্রী: দেশ ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে

ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জলদস্যু কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

সুন্দরবনের ওপারে দীর্ঘকাল ধরেই ভীতির ছায়া ফেলছিল ছোট জাহাঙ্গীর নামের এক জলদস্যু বাহিনী। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ওই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন দস্যু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে, ফলে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার লক্ষ্য একটি বড় ধাপ এগিয়ে গেল।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মেজবাউল ইসলামকে হাতে হাত করেই আত্মসমর্পণকারীরা তাদের ব্যবহৃত ২৭টি দেশি–বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র হস্তান্তর করে। এছাড়া কোস্ট গার্ডকে জমা দেয়া হয় ৩৪০ রাউন্ড তাজা গুলি ও ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ, বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা আত্মসমর্পণকারীদের স্বাগত জানান এবং তাদের ভুল পথ ত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাওয়ার সাহসিকতাকে সাধুবাদ জানান। একই সঙ্গে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন—সুন্দরবনকে জলদস্যু, বনদস্যু ও চোরাকারবারী মুক্ত রাখতে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কড়াভাবে চালু থাকবে।

স্থানীয়রা বলছেন, ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর দীর্ঘদিনের দাস্যুতা ও মুক্তিপণ আদায়ের কারণে জেলে, বাওয়ালি ও মাওয়ালি শ্রেণীর মানুষের জীবন নাবালক হয়ে পড়েছিল। যে জেলেরা মুক্তিপণ দিতে অপারগ ছিল, তাদের নির্যাতন, শারীরিকভাবে নির্যাতন ও দিনের পর দিন শিকলবন্দি করে রাখার ঘটনাও ঘটত বলে বহু অভিযোগ ছিল। এই পরিস্থিতিতে আজকের আত্মসমর্পণ স্থানীয় জনগণের মধ্যে শিথিলতার বাতাবরণ ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কোস্ট গার্ড জানায়, আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ আইনানুগ কার্যপ্রণালীর অংশ হিসেবে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে যারা সততার সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া মেনে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইবেন, তাদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারিক ও মানবিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে বলেও ঘোষণা করা হয়।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে ছিলেন বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখ (৪৫) ও অন্যান্য সদস্যরা—মুজাহিদ গাজী (২৭), বিল্লাল শেখ (৩৫), জাহিদ হাসান (২৮), সুমন ঢালী (৩০), এরশাদ শিকারী (৪২), ওয়াহিদুজ্জামান (৩০), আইউব শেখ (৪২), রাফসান ঢালী (৩০), পারভেজ শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৫), জহুরুল গাজী (৩৮), সিরাজুল তরফদার (৩৮), আমিনুল ইসলাম (৪০), আসাদুল ইসলাম (৪২), বাবুল শেখ (৪৫), শাজাহান শেখ (৪২), হেলাল (৩৮) —যারা খুলনার দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা থানার বাসিন্দা। এছাড়া আকরাম শেখ (৪৫), নুরুল ইজারদার (৫০), হাসান শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৮), জিয়া শেখ (৩৮), কবির সুলতান (৫৫), কাইয়ুম জমাদ্দার (৪০), শরিফুল ইসলাম বয়াতি (২১) এদের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল, ফকিরহাট, কচুয়া, মোড়লগঞ্জ ও শরণখোলা। একজন—মোঃ জয়নাল আবেদীন (৩৮) পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার বাসিন্দা বলে জানানো হয়।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের প্রধান ক্যাপ্টেন মেজবাউল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, যারা এখনও সক্রিয় আছেন তাদেরও নিকট অতিতে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হচ্ছে; যারা আইন মেনে ফিরে আসবে তাদের পুনর্বাসন ও সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে, আর যারা অপরাধ অব্যাহত রাখবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় বনজীবী ও জেলে সমাজ বলছে, আত্মসমর্পণের ফলে এখন সূর্যোদয়ের পর জাল বোনা, নৌকায় মাছ ধরার কাজে এবং উপকূলীয় কাজে তিনিেরা আগের মতো স্বচ্ছন্দে ফিরতে পারবেন। জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণ, আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসন ও পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম নেওয়ার কার্যপ্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। গত কয়েক মাসে—চলতি বছরের ২১ মে সুমন বাহিনী ও ৯ জুলাই জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই দফায় মোট ১০ জন জলদস্যু অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছিল; এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এখন সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার লক্ষ্য আরও শক্তিশালী হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo