1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

জি-ফাইভ ভারতের ক্যাটালগ থেকে ‘সতলুজ’ সরানোতে তীব্র বিতর্ক

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

ভারতের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভের ভারতীয় ক্যাটালগ থেকে পাঞ্জাব ভিত্তিক বিতর্কিত ছবি ‘সতলুজ’ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর দেশজুড়ে তুমুল প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারতীয় দর্শকদের জন্য ছবিটির স্ট্রিমিং বন্ধ করে দেওয়ায় চলচ্চিত্রটিকে সমর্থন করা ও আপত্তি উভয়দিক থেকেই কড়া প্রতিবাদ উঠেছে।

এই চলচ্চিত্রটি শিখ মানবাধিকারকর্মী জশবন্ত সিং খালরার জীবনী এবং ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে পাঞ্জাবে পুলিশের হেফাজতে নিখোঁজ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও সৎকার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নির্মিত। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ; অন্যদিকে ছবিতে আছেন অর্জুন রামপালও।

ছবিটি আকস্মিকভাবে প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে দিলজিৎ নিজেও তা কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘আমি এই অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। খালরা সাহেবের কণ্ঠস্বর কেউ দমাতে পারবে না।’ এছাড়া একটি ইনস্টাগ্রাম লাইভে বলেছিলেন তিনি আগে থেকেই ভাবছিলেন ছবিটি হয়তো নামানো হবে, এবং ভক্তদের বলেছিলেন ‘আপনারা এটি ডাউনলোড করে নিন।’

জি-ফাইভ কর্তৃপক্ষ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায় যে, ‘মুক্তির পর থেকে ‘সতলুজ’র প্রতি দর্শকদের সাড়া সত্যিই অভিভূত করার মতো। আমরা চলচ্চিত্রটির সৃজনশীল ভাবনার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আছি। তবে বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতে ছবিটির স্ট্রিমিং বন্ধ থাকবে। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছবিটি যত দ্রুত সম্ভব ভারতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’ কথাটি যোগ্যতামাফিক বলা হয়েছে যে, বিশ্বব্যাপী ‘জি-ফাইভ গ্লোবাল’ প্ল্যাটফর্মে ছবিটি এখনও দেখা যাচ্ছে — কেবল ভারতীয় ক্যাটালগ থেকে এটি সরানো হয়েছে।

চলচ্চিত্রটি ওটিটি-তে ছাড়ার আগে দীর্ঘ সেন্সরঝামেলায় পড়ে। ২০২২ সালে প্রথম সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের (সিবিএফসি) কাছে সাপ্লাই করার সময় বোর্ড ১২৭টি দৃশ্য কাটার নির্দেশ দিয়েছিল এবং ছবির নাম পরিবর্তন করে ‘পাঞ্জাব ৯৫’ রাখার পরামর্শ দিয়েছিল। প্রযোজকরা সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টে আপিল করেন, পরে আপিল প্রত্যাহার করেন। কয়েক বছরের জটিলতা ও উৎসবে প্রদর্শনের বাতিলের পর অবশেষে ৩ জুলাই ছবিটি জি-ফাইভে ‘সতলুজ’ নামে মুক্তি পায়।

পরিচালক হানি ত্রেহান বলেন, থিয়েটার মুক্তি না পাওয়ায় গোপনীয়ভাবে ওটিটি রিলিজের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। প্রযোজকরা দাবি করেন যে ওটিটি-তে ছবিটি কোনো রকম কাটছাঁট ছাড়াই স্ট্রিম করা হয়েছিল।

ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনীতির ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। শিরোমনি আকালি দলের সভাপতি সুখবীর সিং বাদাল বলেন, এটি ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আমাদের যৌথ স্মৃতির ওপর আঘাত’। কংগ্রেস নেতা সুখপাল সিং খাইরা ছবিটি পুনরায় প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনার দাবি করেন এবং বলেন, সিনেমায় বর্ণিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আদালতের রায়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। আম আদমি পার্টির সংসদ সদস্য মালবিন্দর সিং কাং কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিকে আক্রমণ করে বলেন, ‘ব্লক করে বিজেপি তাদের আসল মুখ উন্মোচন করেছে।’ শিরোমনি গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটির সচিব কুলবন্ত সিং মানান বলেছেন, জনগণের এই ইতিহাস দেখার ও নিজস্ব মত গঠন করার অধিকার রয়েছে।

এই চলচ্চিত্রটি কেন বিশেষভাবে গুরুত্ব বহন করে তা ভাবলে জানতে পারা যায়: জশবন্ত সিং খালরা ১৯৯০-এর দশকে পাঞ্জাব পুলিশের দ্বারা অজ্ঞাতনামা বা বেওয়ারিশ হিসেবে পুড়িয়ে ফেলা গুণান্বিত কয়েক হাজার মৃতদেহের সন্ধান ও পরিচয় উদঘাটনে সক্রিয় ভূমিকা নেন। তাঁর তদন্তের ফলে বহু পুলিশ কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয় উঠে আসে। ১৯৯৫ সালে খালরাকে অপহরণ করে পুলিশের হেফাজতে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে; কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (সিবিআই) তদন্ত ও পরে ২০০৭ সালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার হাইকোর্টের বিচার এই হত্যাকাণ্ডে চারজন পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

সমালোচকদের প্রশ্ন, দেশজুড়ে প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিতর্কিত কিছু ছবি—যেমন ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ (২০২২), ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ (২০২৩) বা ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ (২০২৫)—সহজেই মুক্তি পায়, তেমনকি বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে মানবাধিকার বোঝানোর মতো একটি ছবিকে কেন ভারতীয় দর্শকদের থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে? ‘সতলুজ’ নির্মাণ ও রিলিজ ইস্যু যে কেবল একটি সিনেমার বিতর্ক নয়, বরং তথ্য, ইতিহাস ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন তলব করছে—এটাই সবার সামনে স্পষ্ট।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo