1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

চোখের জল আর বৃষ্টির পানিতে ভাসছেন সাবেক সদস্য দীপ্তি মজুমদার

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নে বৃষ্টির পানিতে ভেসে উঠেছে একসময় গণমানুষের সেবা করা একটি জীবন। সাবেক মহিলা সদস্য দীপ্তি মজুমদার (৬০) বসবাস করছেন ভাঙাচোরা ঘর-বারোয়, চারিদিকে মাটির সঙ্গে মিশে থাকা বালু উত্তোলনের কারণে জমি নেমে গেছে; সামান্য বৃষ্টিতেই পানি ঢুকে মেঝে স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে ওঠে।

বাড়ির সন্ধিক্ষণে দেখতে পাওয়া ভঙ্গুর কুঁড়ে ঘর, বাঁশ-খুঁটি ও পাটাতনের উপর ভাসছে; ঘরের বেড়া ও গাছ-খুঁটি পানিতে ফুলে খুলে পড়ে। রান্নাঘরটি এখন ব্যবহারের অনুপযোগী; রান্না-খাওয়া, ঘুম—সবই স্যাঁতস্যাঁতে মেঝেতে করতে হয়। মশার আক্রমণ, কেঁচো, পোকামাকড় আর মাঝে মাঝে সাপ-ব্যাঙ—এইসবই তার সঙ্গী।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ৩ টায় কাঁদতে কাঁদতেই দীপ্তি মজুমদার জানান, ২০১২ সালে স্বামী ক্ষিরোদ চন্দ্র মজুমদার মারা যাওয়ার পর তাদের আর্থিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। স্বামীর ভারা কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি। মানুষেদের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে কষ্ট করে একমাত্র সন্তান সিনিগ্ধার লেখাপড়া চালান; ২০১৩ সালে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে তিনি নিজ বাড়িতেই থাকেন। ২০১৬ সালে স্থানীয় মানুষের আস্থায় সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য হিসেবে ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত হন। পাঁচ বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করে জনতার সেবায় সময় কাটান, নিজের জন্য কোনো জমি-বাড়ি জোগাড় করতে পারেননি—এখন নিজেরাই অসহায় অবস্থায় পড়েছেন।

দীপ্তি বলেন, ‘এলাকার প্রভাবশালি কিছু লোক বাড়ির চারিদিক থেকে বালু উত্তোলন করেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ঘর তলিয়ে যায়। রান্নাঘর আর খাওয়ার জায়গা ব্যবহার যোগ্য নেই। কেঁচো-পোকা আর সাপ-ব্যাঙে ঘেরা পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে।’

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার জানান, ‘‘গত ১ জুলাই আমি সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ভাঙা রাস্তা পরিদর্শন করতে গিয়েছিলাম। তখন ওই নারীর সঙ্গে কথা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে পাইপ দিয়ে পানি নিস্কাশন করার ব্যবস্থা করতে বলেছি।’’

ঐতিহাসিকভাবে স্থানীয় নেতৃত্ব দিয়ে মানুষকে সাহায্য করা একজন নারী আজ নিজের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরসহ সরকারি ও সামাজিক সহায়তা প্রত্যাশা করছেন। স্থানীয় প্রশাসন যে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন, তা দ্রুত কার্যকর করা না হলে বর্ষা কালের সঙ্গে তার দুরাবস্থাও আরও বাড়বে—স্থানীয়দের দাবি ও বাস্তবতা একই পটভূমিতে আছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo