চলতি বিশ্বকাপে চালু হওয়া নতুন নিয়মের আওতায় মুখ ঢেকে নিজেদের কথোপকথন লুকিয়ে রাখাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ম্যাচ কর্মকর্তারা ঘটনার পর পর্যালোচনা করে এটিকে গুরুতর মানেন এবং প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগেল আলমিরনকে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই নিয়মে দোষী সাব্যস্ত করে লাল কার্ড দেখান। ফিফা তাকে এক ম্যাচের নির্বাসন দিয়েছে এবং এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা যাবে না।
ঘটনাটি তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে ঘটে। খেলায় প্রতিপক্ষের একজনকে কিছু বলার সময় আলমিরন তার হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখেন—এমনভাবে যেন কথাগুলো লিপ রিডিং থেকে বাঁচানো হয়। তুরস্ক দলের খেলোয়াড়রা এটি দেখে রেফারির কাছে অভিযোগ জানায়। ম্যাচের ধারাভাষ্যকাররাও ঘটনাটিকে ‘‘অবিশ্বাস্য’’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ওই ঘটনায় প্যারাগুয়ে মাঠে একেকজন কমে ১০ জনে খেলতে বাধ্য হয়, তবে আগে তারা মাতিয়াস গালারজার করা বিশ্বকাপের প্রথম দফার দ্রুততম গোল (৬৪ সেকেন্ডে) রেখেই ম্যাচটি জিতে নেয়।
দুই ম্যাচ শেষে ডি গ্রুপে প্যারাগুয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। সমান পয়েন্ট থাকা অস্ট্রেলিয়া গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে আছে। ফলে সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্যারাগুয়ের পরের ম্যাচটি নকআউট নিশ্চিত করার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—কিন্তু আলমিরন সেখানে খেলতে পারবেন না, ফিফা বুধবার এ কথা নিশ্চিত করে।
খেলোয়াড়রা মাঠে কথা বলার সময় মুখ ঢেকে নেওয়ার দৃষ্টান্তটা নিত্যপ্রয়োগ। তারা মুখ ঢেকে রাখেন যাতে বিরোধীরা তাদের কথার মাধ্যমে কৌশল বা অভিমত ধরে না ফেলতে পারে—এটি লিপ রিডিং প্রতিরোধের উদ্দেশ্যেই করা হয়। তবে চলতি বিশ্বকাপে ফিফা এই ধরনের আচরণ বন্ধ করতে নিয়ম ভাঙার সর্বোচ্চ শাস্তিও কার্যকর করার কথা বলেছিল, এবং এখন তা প্রয়োগ করা হয়েছে।
নিয়মটি ল,অ অফ দ্য গেমের অধীনে বাধ্যতামূলক না-এবং টুর্নামেন্ট আয়োজকরা নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি ব্যবহার করতে পারে। ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্টিনোও নতুন নিয়মটির পক্ষে কথা বলেছেন এবং বলেছেন মুখ ঢেকে কথা বলা পারস্পরিক সম্মানের বিরুদ্ধে যায়; ‘‘আপনার যদি লুকানোর কিছু না থাকে, আপনি মুখ ঢেকে কথা বলবেন না।’’ তিনি বলেন নিয়মগুলো সবার জন্য স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাই সবাইকে সেগুলো মেনে চলতে হবে।
আলমিরনের বিরুদ্ধে নেওয়া এই কড়া পদক্ষেপ ভবিষ্যতে মাঠের আচরণ আর কথোপকথন নিয়ন্ত্রণে কীভাব পরিবর্তন আনে তা ওপর নজর রাখা হবে। তবে এখনকার নির্ঝঞ্ঝাট বার্তাটা স্পষ্ট: বিশ্বকাপে বক্তৃতা লুকানো কিংবা মুখ ঢেকে কথা বলা মেনে নেওয়া হবে না।