1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
গেজেটে ঘোষণা: এক বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২৫ মে–২৫ মে) জিয়াউল আহসানের দেহরক্ষী ইমরুল কায়েসের দাবি: ১৫০–২০০ জনকে হত্যা করতে দেখা ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ: বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান ২ দিনের রিমান্ডে বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড ধানমন্ডিতে ১০ তলা থেকে পড়ে গৃহকর্মীর মৃত্যু; পাউবো প্রকৌশলী দম্পতি দুই দিনের রিমান্ডে সিলেটের ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার, জনপ্রশাসনে সংযুক্ত দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান উজানের পাহাড়ি ঢলে ফুলে ফেঁপে উঠেছে তিস্তা নদী উত্তরের চার জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা শিক্ষামন্ত্রী: বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সনদ নয়, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার কেন্দ্র হতে হবে

খুলনায় এসে ১৮ দিন ধরে খাবার বর্জন করছে বাগেরহাট মাজারের কুমির

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

চলতি মাসের ১ তারিখ সন্ধ্যায় বাগেরহাট জেলার ঐতিহ্যবাহী খানজাহান আলী মাজারের দিঘি থেকে ফাতেমা নামে এক শিশুকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জনদাবি ও মزار কমিটির অনুরোধে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ কুমিরটিকে উদ্ধার করে বহু চেষ্টা শেষে গত ৩ জুন খুলনায় আনে।

তবে খুলনার নতুন আবহাওয়ায় এসে ওই কুমির গত ১৮ দিন ধরে পুরোপুরি খাবার বয়কট করেছে এবং এখনও কিছুই খাচ্ছে না। এটি নিয়ে বিভাগীয় কর্মকর্তারা অনুশোচনা জানাচ্ছেন; মানুষ এবং প্রাণী—উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অগ্রাধিকার।

খুলনা ডিসিএফও নির্মল কুমার পাল জানান, কুমিরটি মাজারের দিঘি থেকে মাঝে মধ্যে লোকালয়ে চলে যেত; এতে মানুষের ওপর আক্রমণের ঝুঁকি থাকত এবং ক্ষুব্ধ জনতা প্রাণটিকে পিটিয়ে মারার আশঙ্কাও থাকত। তিনি বলেন, মাজার কমিটি যদি এক-দুই মাসের মধ্যে উভয়পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের জানায়, তবে কুমিরটিকে দিঘিতে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে; অন্যথায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জানান, এই মিঠা পানির কুমিরটির গড় দৈর্ঘ্য প্রায় ৭–৮ ফুট, ওজন আনুমানিক ৫০০–৬০০ কেজি এবং বয়স প্রায় ৫০ বছর। অতিরিক্ত চর্বির কারণে সে মাটিতে বেশি হাঁটতে পারছে না; শরীরের ফ্যাটি(চর্বি) থাকার কারণে প্রজননক্ষম হলেও কিছু শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

বর্তমানে কুমিরটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে সে নিজের চেনা পরিবেশে ফেরার জন্য ছটফট করছে এবং প্রায়ই খাঁচার গেটে গিয়ে ধাক্কা দিচ্ছে। তবে তবুও খাবারের প্রতি অনীহা দেখা যাচ্ছে—বাগেরহাট থেকে আনার পর থেকে ওজন বেশি থাকা সত্ত্বেও কুমিরটি এখন পর্যন্ত কিছুই খায়নি। মুরগি ও পানিতে বেঁধে দেওয়া হাঁসের মতো সহজ শিকারও তাকে খাওয়াতে সক্ষম হয়নি; এমনকি খাঁচায় রাখা মুরগি শিকার করে মেরে ফেললেও তা খায়নি।

বনে বিভাগের অ্যানিমেল কিপার ও জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউটরা প্রতিনিয়ত সতর্কতার সঙ্গে তার যত্ন নিচ্ছেন। কুমিরের থাকার পানিও প্রতিদিন পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং গরমে তার শরীরে ফ্রেশ পানি স্প্রে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, খানজাহান আলী মাজারের দিঘিতে আগে ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’ নামে দুই বিখ্যাত কুমির ছিল। সেগুলো মারা যাওয়ার পর ভারতের মাদ্রাজ (চেন্নাই) থেকে কয়েকটি মিঠা পানির কুমির এনে দেয়া হয়। কুমিরদের মধ্যে কোন্দল ও মারামারির ফলে অনেকটি মারা গেলে বর্তমানে সেখান থেকে মাত্র এই এক কুমির বেঁচে ছিল, যেটি এখন খুলনায় বন্দি অবস্থায় আছে।

বিভাগীয় কর্মকর্তারা বলছেন, কুমিরটিকে ফেরত দেওয়া হলে মানুষ ও প্রাণী দুইপক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নাহলে তাদের কাছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo