প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান bugün রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’’এর সমাপনী ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মকে দেশের ভাবমূর্তি নতুনভাবে উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান। গ্যালারি থেকে খুদে ফুটবলারদের উত্তেজনাপূর্ণ খেলা উপভোগ করার পর তিনি বিজয়ী ও রানার্স-আপ দলকে ট্রফি তুলে দেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য ছিল, বাংলাদেশকে শক্তিশালী ও গৌরবময় একটি রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে ভবিষ্যতে যে দায়িত্বগুলো নিতে হবে সেগুলো তরুণরাই পালন করবে। ‘‘এটা তোমাদের ভবিষ্যৎ, এটা তোমাদের বাংলাদেশ’’—কথাগুলো উদ্ধৃত করে তিনি স্কুলছাত্রী-ছাত্রীদের উদ্দেশে দেশপ্রেম ও দায়বদ্ধতার বার্তা দেন এবং সরকারের মূল স্লোগান ‘‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’’ স্মরণ করান।
খেলাধুলা ও সৃষ্টিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিতে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের উৎসাহ দেন। তিনি বলেন, ‘‘খেলাধুলা ছেড়ে দিলে চলবে না; নিয়মিত মাঠে যেতে হবে। ফুটবল, সাঁতার বা যেটা ভালো লাগে সেটাই করো। গান, সঙ্গীত, চিত্রাঙ্কন বা কিরাত—যারা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চায়, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।’’
নিজের শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি ছোটবেলায় ম্যাকানো সেট নিয়ে খেলেছেন, নানা জিনিস বানিয়েছেন—এমনভাবে শিশুদেরও নতুন কিছু তৈরি করতে এবং চিন্তা-চেতনায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ‘‘তোমাদের মাথায় প্রচুর বুদ্ধি আছে, তা কাজে লাগাতে হবে,’’ তিনি যুক্ত করেন।
টুর্নামেন্টের বালিকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় পাবনার সাঁথিয়ার জোরগাছা ইউনিয়নের জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; তারা ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৪-২ গোলে পরাজিত করে। বালক বিভাগের ফাইনালে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ত্রিশালের দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নের গৌরব অর্জন করে।
৬ এপ্রিল থেকে আড়াই মাস ধরে চলা এই প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫,৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোটি এক লাখেরও বেশি ছেলে এবং এক কোটি এক লাখেরও বেশি মেয়ে অংশ নেয়—ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পর্ব পেরিয়ে দলগুলো চূড়ান্ত পর্বে ওঠে। সরকারি হিসেবে গত দেড় মাসে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে রেকর্ড ১ লক্ষ ২৩ হাজার ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, এ খবর টেনে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বললেন যেন এই বিশাল আয়োজনের তথ্য ‘‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’’-এ সংযুক্ত করার জন্য দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আলোচ্য অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর একটি বড় ঘোষণা ছিল—শুধু প্রাথমিক পর্যায়ের জন্য নয়, মাধ্যমিক পর্যয়েও একই ধরনের প্রতিযোগিতা চালু করা হবে। তিনি জানান, এই বছর মাধ্যমিক স্তরে এবং আগামী বছর প্রাথমিক পর্যায় থেকে ‘‘প্রাইম মিনিস্টার কাপ’’ আরম্ভ করা হবে।
বিশ্ব ফুটবলের উজ্জ্বল নাম—রোনালদো, মেসি, এমবাপেপ্রমাণ করে আজকের বিশ্বমঞ্চে কে আসছে তা, প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘‘তোমাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি হবে। অলিম্পিকে আমাদের ফলাফল আরও উন্নত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, ক্রিকেটের কারণে এখন বিশ্বের অনেক মানুষ বাংলাদেশকে চিনে—কিন্তু শুধুমাত্র ক্রিকেটেই থেমে থাকলে চলবে না। ফুটবল, সাঁতার, হকি, টেনিসসহ সব খেলায় তরুণরা সফল হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের জন্য গৌরব অর্জন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেখতে পাওয়া এক উজ্জ্বল মুহূর্ত ছিল টুর্নামেন্ট চলাকালীন তিনি আনুষ্ঠানিক গ্যালারি ছেড়ে মাঠপাশে নেমে গিয়ে খুদে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে উৎসাহ দেয়া। প্রটোকল ভেঙে এমন ঘনিষ্ঠতা দেখে গ্যালারির দর্শকরা উচ্ছ্বসিত হন। প্রধানমন্ত্রী মাঠে বসার জন্য মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য ও ছাত্রদলের নেতাদেরও আহ্বান জানান, ফলে অনেকেই গ্যালারি ছেড়ে মাঠে গিয়ে বসে খেলা উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, এ কে এম শামসুল ইসলাম, জাহেদ উর রহমান, মাহদী আমিন, সংসদ সদস্যরা মাহবুবুর রহমান লিটন ও আবুল হোসেন খান, বাফুফে প্রেসিডেন্ট তাবিথ আউয়াল, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
সমাপ্তিতে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা স্পষ্ট ছিল—তরুণরা খেলাধুলা ও সৃষ্টিশীলতায় এগিয়ে আসলে দেশের কদর বাড়বে, এবং তাদের হাতেই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানে প্রতিষ্ঠিত করার চাবিকাঠি রয়েছে।