1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান উজানের পাহাড়ি ঢলে ফুলে ফেঁপে উঠেছে তিস্তা নদী উত্তরের চার জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা শিক্ষামন্ত্রী: বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সনদ নয়, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার কেন্দ্র হতে হবে ধানমন্ডিতে ১০ তলা থেকে পড়ে ৮ বছর বয়সী গৃহকর্মীর মৃত্যু পুলিশ ইউনিফর্মে বদল: জেলা-ইউনিটে গাঢ় নীল ও খাকি, মহানগরে লাইট অলিভ ধানমন্ডিতে ১০তলা ভবনের বারান্দা থেকে পড়ে ৮ বছরের গৃহকর্মীর মৃত্যু গুজব ও এআই-ভিত্তিক বিভ্রান্তি রোধে সরকার কঠোর হচ্ছে শিক্ষামন্ত্রী: সারাদেশে একযোগে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে বোর্ড পরীক্ষা হবে সাবেক ডিবি এডিসি গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে

৬৫ বছরের খবির দাড়িয়ার ভাঙা ভ্যান, মেরামতে দরকার ৫ হাজার টাকা

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

বয়ো হলো সত্ত্বেও কাজ থামাতে চান না খবির দাড়িয়া। জীর্ণশীর্ণ শারীরিক কষ্ট সত্ত্বেও তিনি পুকুরের পানি তুলে ভাঙা ভ্যানে ঢেলে তা বিক্রি করে দু’বেলা খাবার জোগাড় করেন। কিন্তু এখন ভ্যানটি অকেজো হয়ে পড়েছে; মেরামতের জন্য দরকার কমপক্ষে পাঁচ হাজার টাকা—যা তাঁর মহত্ম্যের হাত পাতার ইচ্ছে ছাড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (২০ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা পরিষদের পুকুরে খবির দাড়িয়া কঠোর পরিশ্রম করছেন। পুকুরের পানি পাড় থেকে সাত থেকে আট ফুট গভীরে। সেখানে থেকে তিনি দু’হাতে দুইটি কলসি ভরে পিচ্ছিল পথ পেরিয়ে উঠে আসেন। পাড়ে ওঠার পর ভাঙা ভ্যানে উঠে কলসির পানি ড্রামে ঢালেন—ভ্যানের কাঠের বডি ধারালো লক্কর-ঝক্করে ভর করা, সেটিকে দড়ি দিয়ে বাধা দেওয়া আছে। দড়ি ছিঁড়ে ভ্যানটি যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, তবুও খবির থেমে থাকেন না।

খবির দাড়িয়া (৬৫) বলেন, তিনি উপজেলার আড়য়াবর্নি চরপাড়া গ্রামে থাকেন। বাবা কেয়াম উদ্দিন দাড়িয়া ও মা মাঝু বিবি বহু বছর আগে মারা গেছেন। স্ত্রী ও দুই ছেলে প্রায় ২০ বছর আগে তাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন, এরপর থেকে একাই জীবন-সংগ্রাম চলছে। বাজারের চা দোকান ও হোটেলে রান্নার কাজে ব্যবহার করার জন্য পুকুরের পানি বিক্রি করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতি কলসির পানি বিক্রি করেন ১০ টাকায় এবং একটি ড্রাম পানি ১০০ টাকায়। দিনে সাধারণত ২০০–৩০০ টাকা আয় হয়; তাতেই তিনি হোটেল থেকে খাবার কিনে খেয়ে ফেলেন। দিনের আয় না হলে অনেকে দিনের পর দিন না খেয়ে কাটাতে হয়।

খবির জানান, বর্তমানে ভ্যানের বডি ভেঙে লক্কর-ঝক্কর অবস্থায়; অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভ্যানটি মেরামত করাতে তাঁর কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা প্রয়োজন। আজ পর্যন্ত তিনি কোনো সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে সহায়তা পাননি।

চিতলমারী সদর বাজারের ব্যবসায়ী সুবল কর্মকার বলেন, খবির দাড়িয়া কখনো খেয়ে থাকা সত্ত্বেও ভিক্ষা করেন না। তাই তার জন্য ভ্যানটি মেরামত করে দেয়া বা একটি নতুন ভ্যানের ব্যবস্থা করা উচিত।

বৃদ্ধ খবিরের দুর্দশা স্থানীয়দের সবাইকে চিন্তিত করেছে; যদিও তিনি সাহায্য চাইতে চান না, স্থানীয় সহায়তা না হলে তার খাদ্যসংকট ও জীবিকা প্রশ্নচিহ্নের মতো ভাসমান থাকবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo