সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (দুবাই) গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (১৪ জুন) বিকেলে সংসদ অধিবেশন শুরুতেই ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও নিশ্চিত করেছেন এবং তাকে পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করা হয়। পুলিশের হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা ১১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ইন্টারপোলে আবেদন পাঠায়। ইন্টারপোল ২০২৫/২৩৯ নম্বর ফাইল ও ৫৭৪/২০২৫ কন্ট্রোল নম্বরের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে এবং এর ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে গ্রেপ্তারের জন্য অনুরোধ জানায়।
তিনি আরও জানান, ১২ জুন ২০২৬ তারিখে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ, ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো ইমেইলে বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানানো হয়েছে যে, দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক রয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এনসিবি আবুধাবি জানিয়েছে—ইউআইই ফেডারেল ল’ নাম্বার ৩৯ অব ২০০৬ অনুযায়ী গ্রেপ্তার হওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট (প্রত্যর্পণ অনুরোধ) পাঠাতে হবে।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বিচারাধীন মামলা ও অভিযোগের মধ্যে রয়েছে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ এবং ১০৯ ধারাসমূহ; ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২), ২৬(২) এবং ২৭(১) ধারা; পাশাপাশি বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩-এর ১১ ধারার অধীনে মামলা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এনসিবি ঢাকা ইন্টারপোল চ্যানেলের মাধ্যমে রেড নোটিশ প্রকাশ, আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও বিদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং গ্রেপ্তার পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দলিলাদি প্রস্তুত করেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সট্রাডিশনের প্রস্তাব প্রস্তুত ও অনুমোদন করলে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হবে। এনসিবি আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে এনে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্ত্রী আশ্বাস দেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ এটা বাংলাদেশের পুলিশ ও আইনপ্রয়োগকারীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসব এবং প্রতিটি অপরাধী—যতই শক্তিশালী হোক না কেন—আইনের চূড়ান্ত আওতায় আনা হবে। তিনি এটিকে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।