আর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘ঋণ কেলেঙ্কারি’ ও আর্থিক সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোকে দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের আর্থিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনার জন্য ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি চালু করা হবে এবং প্রয়োজনে পুনরায় মূলধনীকরণ ও ব্যবস্থাপনা সংস্কার করা হবে। তিনি জানান, এ কাজের জন্য চলতি অর্থবছরে সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং বিনিয়োগের প্রবাহ সচল রাখতে মধ্যমেয়াদি কৌশলের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো। তিনি বললেন, শৃঙ্খলা ফিরলে আমানতকারীদের আস্থা কোনোভাবেই ফিরবে এবং বিনিয়োগ বাড়বে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি প্রয়োগ করা হবে। প্রয়োজন অনুসারে এসব ব্যাংকে রিক্যাপিটালাইজেশন এবং ব্যবস্থাপনা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংসদে তিনি স্পষ্ট করে বললেন, “দুর্বল ব্যাংকসমূহের আর্থিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পুনমূলধনীকরণ ও ব্যবস্থাপনা সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এ জন্য চলতি অর্থবছরে সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে।”
প্রসঙ্গত তিনি বর্ণনা করেছেন যে, ২০০৫ সালে (বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে) সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত ছিল ৭.৩ শতাংশ; কিন্তু ২০২৫ সালের শেষে তা ঋণাত্মক — ২.৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে ২০০৫-০৬ অর্থবছরের বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮.৩ শতাংশ, যা ২০২৪-২৫ সালে কমে ৬.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা, স্ক্যাম ও ভুল নীতির ফলে পুঁজিবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী সংসদে যে মূল প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেছেন সেগুলো সংক্ষেপে হলো:
1. খেলাপি ঋণ হ্রাস, ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিল ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংক পরিচালনায় জবাবদিহিতা জোরদার করা।
2. আমানতকারীদের টাকা ফিরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যাংক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া।
3. বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
4. ব্যাংক কার্যক্রমে রাজনৈতিক নিয়োগ ও হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং পারিবারিক প্রভাব কমাতে প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধন।
বৃহত্তর কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডভিত্তিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, মূলধন পর্যাপ্ততা ও করপোরেট গভর্ন্যান্স নিশ্চিত করা হবে, যাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক হয়। এছাড়া আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়িয়ে নারী, তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের সুযোগ প্রসারিত করার প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির ‘পুনর্গঠন’এর অংশ হিসেবে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থাই লক্ষ্য। সরকার ঋণনির্ভর বিনিয়োগকে ইক্যুইটিতে রূপান্তর করার পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ধীরে ধীরে ঋণভিত্তিক অর্থনীতি থেকে инвестиভিত্তিক অর্থনীতিতে যেতে চায়।