1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
যশোরসহ চার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হবে জলবায়ু রোধে ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন করবে সরকার যশোরসহ চার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হবে সরকার ঘোষণা: ৫ বছরে ২০ হাজার কিমি নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন শপিংমল ও দোকানপাট রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার নতুন সিদ্ধান্ত বাজেটে বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব আদালত নির্দেশ দিয়েছেন: সালমান শাহের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হবে ৩০ বছর পর: সালমান শাহের লাশ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ বৃক্ষরোপণকে ‘সবুজ বিপ্লব’ে রূপান্তর করতে হবে: ডা. জুবাইদা রহমান মানবতাবিরোধী মামলায় হানিফসহ চারজনের রায় যেকোনাে দিন ঘোষণা হতে পারে

জলবায়ু রোধে ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন করবে সরকার

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সরকার একটি ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে; পাশাপাশি ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের কাজ চালানো হবে। এ ছাড়া পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

আজ (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের মধ্যে একটি; তাই দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।

অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে প্রায় সাড়ে তিন লাখ সবুজ কর্মসংস্থান তৈরি হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ২৫,৯৬০ হেক্টর ব্লক বাগানে ৪ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার চারা রোপণ, ৩ হাজার ৭২৭ কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগানে ৩৭ লাখ ২৭ হাজার চারা এবং ৪ হাজার হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগানে ১ কোটি ৭৭ লাখ ৭৬ হাজার চারা রোপণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বসতবাড়ি বনায়নের আওতায় ৫৬ লাখ চারা লাগানো হবে।

সরকার ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে প্রতিটি বাড়ি বা আঙিনায় এক কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। উপকূলীয় অঞ্চলের ম্যানগ্রোভ বনের ৫০ শতাংশকে কার্বন ট্রেডিংয়ের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘সার্কুলার ফিউচার মডেল’ কার্যকর করার কথাও জানানো হয়েছে।

বায়ু দূষণ নজরদারির জন্য আগামী অর্থবছরে ১৫টি সিএএমএস এবং ১৬টি সি-সিএএমএস স্থাপন করে নিয়মিত বায়ু মান পর্যবেক্ষণ করা হবে। যানবাহন দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিআরটিএর মাধ্যমে ১০টি আধুনিক ভেহিকেল ইন্সপেকশন সেন্টার চালু করা হবে এবং ইলেকট্রিক বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন গাইডলাইন ও হালনাগাদ বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। ‘রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল (৩আর)’ নীতির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে প্লাস্টিক বর্জ্য ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ ক্লাইমেট ট্রাস্টের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সেচ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ, ভূমি পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা নিরসন, নিষ্কাশন উন্নয়ন ও লবণাক্ততা প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে; ইতোমধ্যে ৬ হাজার ৫৯৮ কিলোমিটার খাল খননের কাজ চলছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩০৯ কিলোমিটার নতুন বাঁধ নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ ও মেরামত এবং ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ কাজ করা হবে। একই সঙ্গে ৪৮৪ কিলোমিটার নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি ও ডুবোচর অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নদী পুনরুদ্ধার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিটি বিভাগে অন্তত একটি নদী বা জলাশয় দখলমুক্ত ও পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেয়া হবে। এ লক্ষ্যকরে ধলেশ্বরী, লৌহজং, আলাইকুড়ি, মগড়া, সালতা, সুতাং, বাঁকখালী ও বারনই নদীর পুনরুদ্ধার এবং পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া হাওর-বাঁওড় অঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন ও উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ ইতোমধ্যে একনেকের অনুমোদন পেয়েছে এবং এটি আগামী সাত বছরে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে; দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে। প্রস্তাবিত কাজে চারটি বিভাগের ১৯টি জেলা ও ১২০টি উপজেলা সেবা পাবে।

একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ১০,৫৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্য থেকে পরিষ্কার হয়েছে—জলবায়ু ঝুঁকি হ্রাস, পরিবেশের টেকসই রক্ষা ও পানি সম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনায় সরকার সমন্বিত ও বড় কর্মসুচি নিতে যাচ্ছে, যার সাফল্যই ভবিষ্যতে দেশের সহনশীলতা বাড়াবে বলে তারা আশা করছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo