জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মেগা কর্মসূচি শুরু করবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এই প্রকল্প থেকে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশকালে সংসদে এই পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, কর্মসূচিটি শুধুই পরিবেশ রক্ষা নয়—এটি লোকলজিক উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতেও কাজ করবে।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’’ উদ্যোগের আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে তারা যেন নিজ নিজ বাড়ি বা আঙিনায় অন্তত একজন করে গাছ রোপণ করে—তার মাধ্যমেই প্রথম ধাপ হিসেবে ১ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
বাজেট বক্তব্যে আরও জানানো হয়েছে বিশেষ ক্ষেত্রভিত্তিক রোপণের জন্য সুনির্দিষ্ট টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে ২৫,৯৬০ হেক্টর ব্লক বাগানে মোট ৪ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার চারা রোপণ, ৩,৭২৭ কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগানে ৩৭ লাখ ২৭ হাজার চারা রোপণ, ৪,০০০ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগানে ১ কোটি ৭৭ লাখ ৭৬ হাজার চারা রোপণ এবং বসতবাড়ি বনায়নে ৫৬ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের ম্যানগ্রোভ বনের আধাভাগকে কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রমের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা দেশের জন্য খননযোগ্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে ‘Circular Future Model’ বাস্তবায়নের ভিশন তুলে ধরেন তিনি।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে প্রস্তুত করা হয়েছে। বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, আর মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এই পরিমাপ অনুসারে সামগ্রিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে—যার মধ্যে ব্যাংকিং সেক্টর থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অবশিষ্ট ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের মাধ্যমে।
প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে—এই দুইটি লক্ষ্য আগামী অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত।
বাজেট প্রস্তাব জাতীয় সংসদের স্পিকার গাইডে উপস্থাপন করা হয়; স্পিকার ছিলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও উপস্থিত ছিলেন। বর্তমান সরকারের মেয়াদে এটি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট। নিয়ম অনুযায়ী সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে এবং এর পর রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সম্মতি শেষে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। নতুন অর্থবছর আগামী ১ জুলাই থেকে চালু হবে।