1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
যশোরসহ চার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হবে জলবায়ু রোধে ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন করবে সরকার যশোরসহ চার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হবে সরকার ঘোষণা: ৫ বছরে ২০ হাজার কিমি নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন শপিংমল ও দোকানপাট রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার নতুন সিদ্ধান্ত বাজেটে বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব আদালত নির্দেশ দিয়েছেন: সালমান শাহের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হবে ৩০ বছর পর: সালমান শাহের লাশ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ বৃক্ষরোপণকে ‘সবুজ বিপ্লব’ে রূপান্তর করতে হবে: ডা. জুবাইদা রহমান মানবতাবিরোধী মামলায় হানিফসহ চারজনের রায় যেকোনাে দিন ঘোষণা হতে পারে

৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ, বন-জলদস্যু আতঙ্কে উদ্বিগ্ন জেলে-মহাজন

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

আজ মধ্যরাত থেকেই শেষ হচ্ছে ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা ওঠার সাথে সাথেই ফিশিং ট্রলার নিয়ে সাগরে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন উপকূলীয় জেলে ও মহাজনরা। বাগেরহাটের শরণখোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ঘাটে দেখা গেছে ট্রলার, জাল ও ইঞ্জিন মেরামতে তৎপরতা; শিল্পকারখানার মতো করে মহাজনদের আড়তে জড়ো হচ্ছেন জেলেরা।

তবে দীর্ঘদিনের বিশ্রোর পর আশা আর তৎপরতার সঙ্গে মিশে আছে গভীর উদ্বেগ। সুন্দরবন ও সাগর উপকূল সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সক্রিয় থাকা বন ও জলদস্যু বাহিনীকে নিয়ে ভয়েই জেলে-মহাজনরা হতাশ। তাঁরা বলছে, সাগরে নামলেই এসব দস্যু হামলা চালাতে পারে—জেলে নির্যাতন, অপহরণ, আহরণকৃত মাছসহ ট্রলার লুটের শিকার হবার কথা শোনা যায়।

বুধবার দুপুরে শরণখোলা ঘাটে দেখা যায়, কয়েকটি ট্রলার ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঘাটে এসে ভিড় করছে। ট্রলারে জাল তোলা, ইঞ্জিন পরীক্ষা এবং নানামুখী মেরামত চলছে। কিন্তু বেশিরভাগ ট্রলার এখনও সাগরে পাঠানোর ব্যাপারে অনিশ্চিত; কারণ দুই দিকেই ঝুঁকি—প্রথমে খারাপ আবহাওয়া, পরে দস্যু আক্রমণের আশঙ্কা।

মৎস্য আড়তদার ও ট্রলার মালিক মজিবর তালুকদার ও কবির হাওলাদার জানান, নিষেধাজ্ঞা উঠে নতুন করে জাল ফেললে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। তবু সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ সৃষ্টি করছে দু’টি কারণ: বাজে আবহাওয়া এবং দস্যুদের হুমকি। আবহাওয়া অনুকূল হলে কিছু ট্রলার ঝুঁকি নিয়ে গেলেও অধিকাংশ মহাজন প্রথম দফায় ট্রলার পাঠাবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শরণখোলা সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন বলেন, একটি ট্রলার মেরামত ও সমুদ্রগামী করার জন্য প্রতিটি মহাজনের কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় আছে। অনেক মহাজনই ঋণ নিয়ে এসব কাজ করেছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ ধরে তা বিক্রি করে দেনা শোধ করার আশা ছিল, কিন্তু শুরুতেই বৈরী আবহাওয়া এবং দস্যু আতঙ্কে পরিকল্পনাগুলি ব্যাহত হচ্ছে।

আবুল হোসেন আরও জানান, দস্যুরা আক্রমণ করলে গভীর সাগরে জেলেদের প্রতিরোধ করার উপায় থাকে না; তারা জেলে-পল্লীতে হামলা করে মাছ, জাল, ইঞ্জিন ও ট্রলার লুটে নেয় এবং অপহরণ করলে মুক্তিপণ দাবি করে। তাই মৌসুমের শুরুতেই দস্যুদমন না হলে ইলিশ আহরণও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকে জেলেরা সাগরে যাওয়ার জন্য রওনা হতে পারবেন। তবে প্রথম দিনে আবহাওয়া কিছুটা খারাপ থাকায় অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে সাগরে না যাওয়াই বেছে নিয়েছেন। যারা যাক, তাদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে গভীর সাগরে না যাওয়ার এবং ঝুঁকিপূর্ণ রুট এড়িয়ে চলার। তিনি জানান, দস্যুদের বাধা ও সাগর নিরাপত্তা বিচার করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

জেলে-মহাজনরা আশা করছেন দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সমুদ্রসংলগ্ন এলাকায় কঠোর দস্যুদমন কার্যক্রম শুরু হলে তারা স্বাভাবিকভাবে মাছ ধরায় ফিরে আসতে পারবেন এবং মৌসুম সঠিকভাবে পরিচালিত হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo