1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন

নেশার টাকার কারণে স্ত্রী খুন, স্বামী আত্মহত্যার চেষ্টা

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

প্রেমের টানে চার মাস আগে গোপনে বিয়ে করেন মামাতো-ফুফাতো ভাই-বোন সুজন ও ছামিনা। নতুন জীবনের রঙিন স্বপ্ন কিছুটা স্বপনেই ভেসে ওঠার কথা ছিল—তবে সেই স্বপ্ন একঘায়েম মাদকবাস্তবতায় বদলে গেল।

ঘটনা ঘটেছে সোমবার (৮ জুন) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে যশোর সদর উপজেলা শেখহাটি তামালতলা এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে। মাদকপতিত স্বামীর নেশার টাকা না পান বলে স্ত্রী ছামিনা আক্তার সাম্মী (২০) কে ধপাসে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন সুজন (২২)। ঘটনার পর নিজেও বুকে ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সুজন।

নিহত সাম্মী সদর উপজেলার তরফ নওয়াপাড়ার শফিয়ার রহমানের মেয়ে। দক্ষিণে টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার গয়হাটা ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে সুজন বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের ভিত্তিতে তারা পিতা-মাতাকে না জানিয়ে চার মাস আগে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পর ছামিনা জানতে পারেন, তার স্বামী চরমভাবে মাদকাসক্ত। সেই সময় থেকেই দাম্পত্য জীবনে মারামরি, কলহ ও নির্যাতন শুরু হয়। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই ঝগড়া হত—এমনকি গত শুক্রবার সুজন তার নিজের মাকেও ছুরিকাঘাত করে আহত করার ঘটনাও ঘটেছে।

উভয় পরিবার চেষ্টা চালিয়ে ছিলেন সুজনকে ফেরাতে। তাকে পুনর্বাসন ও অর্থ উপার্জনের সুযোগ করে দিতে বিদেশে পাঠানোরও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল; সোমবারই মালয়েশিয়া যাওয়ার বিমানের টিকিট কাটার কথা ছিল। কিন্তু টিকিট কাটার আগেই মাদকসংক্রান্ত টাকার তর্কে রাতভর উত্তেজনার পর সকালে এই রোখা ও নৃশংস ঘটনার সূত্রপাত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সকালে সুজন ও ছামিনার মধ্যে নেশার টাকার কথা নিয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সুজন ছামিনাকে মারধর শুরু করেন এবং ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি হামলা চালান। ছামিনার আর্তচিৎকারে বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সাকিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ছামীর মৃত্যু হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, স্ত্রীকে হত্যার পর সুজনও নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করে গুরুতর জখম হন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে; বর্তমানে পুলিশি পাহারায় তাকে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে রাখা আছে।

হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে যখন ছামিনার কয়েকজন স্বজন আহত অবস্থায় থাকা সুজনের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং পরে সুজনের পিতা-মাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।

কোতোয়ালি থানা পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে মাদকাসক্তির জেরেই ঘটনাটি ঘটেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় হত্যার একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা এই শোকাবহ ঘটনায় তীব্র আঘাত পেয়েছেন। মাদকাসক্তি ও পরিবারের করণীয় নিয়ে এ ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—কিভাবে সাহায্য ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ আরও কার্যকরভাবে নেওয়া যায়, এমনটাই এখন চাওয়া হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo