অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার মামলার আগের তদন্তকারীদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না; যার ফলে তদন্তে আশানুরূপ অগ্রগতি হচ্ছে না।
বুধবার (৩ জুন) সকালে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে সাগর-রুনির ছেলে মেঘ ও মামলার বাদী মেহেরুন রুনির ভাই নওশের রোমানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনার সময় যেসব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ক্রাইম সাইটে গিয়েছিলেন তাদের অনেকে এখন আর পাওয়া যাচ্ছেন না—ফলে চেইন অব অ্যাকশন কেটে যাচ্ছে এবং নতুন তদন্তদল বেগ পেতে হচ্ছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, অনেক আলামত ও নথিপত্রও এখন খুঁজে পাওয়া যায়নি। পূর্বের তদন্তের ধারাবাহিকতা না থাকায় নতুন টিমের কাছে যথাযথ তথ্য পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে বিচারিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে, তিনি এ আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকারে সাগর-রুনির ছেলে মেঘ তার বাবা-মায়ের জন্য ন্যায়বিচার চেয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল তাকে তদন্তে তৎপরতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং পরিবারের প্রতি সমব্যথা প্রকাশ করেছেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি তাদের বাসায় খুন হন। মামলাটি বর্তমানে ১৪ বছর পেরিয়েছে, তবু হত্যার মোটিভ ও প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কয়েকটি তদন্তকারী সংস্থা মামলাটি ঝুলিয়ে রাখলেও ফল মেলেনি; প্রায় একজন বছর আগে উচ্চ আদালতের নির্দেশে উচ্চস্তরের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হলেও তারা-ও কার্যকর তথ্যের অভাবে অন্ধকারেই রয়েছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, অতীতে করা কিছু জবানবন্দি ও ফাইল আপাতত তালাবদ্ধ রয়েছে। তিনি জানান, তিনি দুইটি ডিএনএ রিপোর্ট দেখেছেন; তার মধ্যে একটি রিপোর্ট একটি আমেরিকান প্রতিষ্ঠান থেকে করা। শিশির মনির আশা প্রকাশ করেছেন, যদি প্রগতি রিপোর্ট পরিবারকে দেখানো হয় বা কোর্টে পাবলিক ডকুমেন্ট হিসেবে তুললে পরিবারের সামনে কিছু আশা ফুটে উঠবে।
এখনও পর্যন্ত মামলাতে কাউকে চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত করা যায়নি; মূলত কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল ও বাদীপক্ষের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট—তদন্তের ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। পরিবারের কাছে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে কাজ করার অনুরোধ আইনজীবী ও পারিবারিক সদস্যরা জানিয়েছেন।